নীল সমুদ্রে ভারতের বিজয়োৎসব
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল
নীল সমুদ্রে ভারতের বিজয়োৎসব
বিশ্বকাপের ফাইনাল এমনিতেই বড় উপলক্ষ। তার ওপর ভেন্যু যদি হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম—ভারতের উচ্ছ্বাস একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। কারণটা অনুমেয়ই। ঘরের মাঠ।
গ্যালারিতে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি। এমন জনসমুদ্রেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের। সেই দলে ছিলেন বর্তমান স্কোয়াডের হার্দিক পাণ্ডিয়া ও জসপ্রিত বুমরাহও। দুঃসহ সেই স্মৃতি নিশ্চয়ই তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল।
গতকালের জয়ের পর সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ পড়ল। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। এই সংস্করণের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর দ্বিতীয়টির জন্য ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৭ বছর। ২০২৪ সালে কেনসিংটন ওভালে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।
তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিরোপার মাঝে এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়নি। ঘরের মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে নেমে আবারও শিরোপা জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে তারা। এর মাধ্যমে নতুন একটি রেকর্ডও গড়েছে ভারত। টানা দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি এর আগে কোনো দল গড়তে পারেনি। এখন এই সংস্করণে সর্বোচ্চ তিনটি শিরোপাও ভারতের দখলে।
দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড।
ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন ব্যাটাররা। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণ। তিনজনের ফিফটি পেরোনো ইনিংসে পাঁচ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে কিউইরা অলআউট হয় ১৫৯ রানে। ম্যাচে কখনোই জয়ের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। প্রথম ধাক্কা আসে সেমিফাইনালের নায়ক ফিন অ্যালেনের উইকেট হারিয়ে। মাত্র ৯ রান করে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন তিনি। এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস ও মার্ক চ্যাপম্যান।
একপ্রান্তে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন টিম সেইফার্ট। ২৬ বলে ৫২ রান করে তিনিও বিদায় নিলে কিউইদের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরে ড্যারিল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনারের ইনিংস শুধু হারের ব্যবধানই কিছুটা কমায়। অথচ একই উইকেটে যেন ভিন্ন গ্রহের ব্যাটিং করেছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। শুরুটা করেন অভিষেক শর্মা। পুরো বিশ্বকাপে খুব একটা দেখা না মিললেও ফাইনালের মঞ্চে ঝড় তোলেন তিনি। নিউজিল্যান্ড বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ১৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট ম্যাচে এত দ্রুত ফিফটির নজির আর নেই। তাঁর সঙ্গে স্যামসনের জুটিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ৯২ রান তোলে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাওয়ার প্লেতে এটি কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
রাচিন রবীন্দ্র এসে অভিষেকের ঝড় থামালেও অন্য প্রান্তে স্যামসনকে আটকানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না কিউই বোলাররা। পরে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ঈশান কিষাণ। দুজন মিলে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন। দ্বিতীয় উইকেটে স্যামসন ও ঈশানের জুটিতে আসে ১০৫ রান। নিশামের বলে আউট হওয়ার আগে ৪৬ বলে ৮৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন স্যামসন। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তাঁর টানা তৃতীয় ফিফটি-তিনটিই ৮০ পেরোনো। ইনিংসটি সাজানো ছিল আটটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে।
একই ওভারে স্যামসনের পর শেষ হয় ঈশান কিষাণের ইনিংসও। ২৫ বলে সমান চারটি করে ছক্কা চারে ৫৪ রান করেন তিনি। ভারতের প্রথম তিন ব্যাটারেরই ফিফটি করেন—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন নজির এবারই প্রথম। নিশামের ওই ওভারের পর কিছুটা লাগাম পড়ে ভারতের ইনিংসে। তবে শেষ দিকে শিভাম দুবে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় এক ওভার থেকে ২৪ রান তুলে স্কোরকে আরও বড় করেন।
ভারতীয় ব্যাটারদের এই তাণ্ডবের জবাব দিতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ফলে আরেকবার বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে খালি হাতেই ফিরতে হলো কিউইদের। আর নিউজিল্যান্ডের হতাশার মাঝেই কানায় কানায় পূর্ণ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা উৎসব করেন ভারতীয় সমর্থকরা।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- নীল* সমুদ্রে,ভারতের
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: