• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অপরাধ

শিশুর কান্না থামাতে কেক-পানি খাইয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, মাস্টারমাইন্ড প্রতিবেশীসহ গ্রেফতার ৬


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৫ পিএম;
শিশুর কান্না থামাতে কেক-পানি খাইয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, মাস্টারমাইন্ড প্রতিবেশীসহ গ্রেফতার ৬

মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:

 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে মফিজার রহমান কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ নুরুল্লাহর বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। 

শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী নুরুল্লাহর প্রতিবেশীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র।

পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলামের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। গত ৪ মার্চ রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল ও পুকুরীডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন: ১. মোঃ মজিবর রহমান (৩৫), ২. মোঃ রমজান আলী (৩০), ৩. মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩০), ৪. মোঃ আশিক (১৯) এবং ৫. মোঃ জুবায়ের (১৯)।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ মার্চ রাতে জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশী আসামী মোঃ আলমকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

তদন্তে জানা যায়, মূল পরিকল্পনাকারী আলম ভিকটিম প্রিন্সিপাল নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। অভাব-অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে নূরুল্লাহর পরিবারের নিকট এক বিঘা জমি বর্গা (আধি) চেয়েছিলেন আলম। জমি না পাওয়ায় মনে ক্ষোভ জন্মায়। নূরুল্লাহ সাহেব হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেনে আলম তার পরিচিত কামরুল ও সাদ্দামদের নিয়ে ডাকাতির ছক আঁকেন।

ডাকাতির সময় আলম মুখে মুখোশ পরে ছিলেন। ডাকাতরা যখন নূরুল্লাহর স্ত্রীর গলায় চাকু ধরে স্বর্ণালঙ্কার দাবি করছিল, তখন বড় সন্তানটি ভয়ে কান্না শুরু করে। এ সময় অদ্ভুত এক আচরণ করেন আলম। শিশুর কান্না থামাতে তিনি নূরুল্লাহর স্ত্রীর ব্যাগ থেকে কেক বের করে শিশুকে খাওয়ান এবং পানি পান করান। তবে এই 'মানবিকতা'র আড়ালে তারা ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটে নেয়।

আসামীদের দেওয়া তথ্যে লুণ্ঠিত ১টি স্মার্টফোন, ১টি সিম কার্ড এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ১টি সাবল, ১টি ছোট চাকু ও ২টি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ২:১০ মিনিটে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা মৌজায় প্রিন্সিপাল নুরুল্লাহর বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত জানালার গ্রিল ভেঙে প্রবেশ করে। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা (নং-২৮) দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামী আলম বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন এবং বাকি ৫ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন