• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

আলফাডাঙ্গায় স্বর্ণের বারের লোভ দেখিয়ে গৃহবধূর সর্বস্ব লুটে নিল প্রতারক চক্র


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২৩ পিএম;
আলফাডাঙ্গায় স্বর্ণের বারের লোভ দেখিয়ে গৃহবধূর সর্বস্ব লুটে নিল প্রতারক চক্র

​ বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্বর্ণের বারের লোভ দেখিয়ে অভিনব কায়দায় ‘শয়তানের নিশ্বাস’ (স্কোপোলামিন জাতীয় কিছু) প্রয়োগ করে এক নারীর সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ওই গৃহবধূ তার পরিহিত গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও সলকেটসহ প্রায় ৭ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ ২শত টাকা স্বেচ্ছায় তাদের হাতে তুলে দেন।
​বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও গোপালপুর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
​ভুক্তভোগী নারীর নাম মরিয়ম (২৬)। তিনি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাঁকাইল গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে এবং উপজেলার পানাইল গ্রামের আমিনুর রহমানের স্ত্রী।
​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মরিয়মের ছেলে গোলাম রাব্বি আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিনের মতো দুপুরে ছেলে স্কুল ছুটি শেষে তাকে নিয়ে মরিয়ম নিজ বাড়ি পানাইলের উদ্দেশে স্কুল গেটের মেইন রোড থেকে গোপালপুরগামী একটি ইজিবাইকে ওঠেন। ইজিবাইকটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের নিকট পৌঁছালে যাত্রীবেশে এক ব্যক্তি তাতে উঠে বসেন।
​এরপর ইজিবাইকটি গোপালপুর রোডের দীপক স্বর্ণকারের সামনে পৌঁছালে ওই যাত্রী বলেন যে মেইন রোডের ওপর একটি ছোট ব্যাগ পড়ে গেছে। মুহূর্তেই ব্যাগটি হাতে নিয়ে মরিয়মকে দেখানো হয়। ব্যাগের ভেতর বোনের বিয়ের জন্য ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের বিস্কুট এবং এক স্বর্ণকার বরাবর লেখা একটি চিঠি রয়েছে বলে দাবি করা হয়, যেখানে স্বর্ণের বারটির দাম ৬ লাখ টাকা উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, এসবের পুরোটাই ছিল প্রতারণা এবং স্বর্ণের বারটি ছিল মূলত পিতলের তৈরি।
​ভুক্তভোগী মরিয়ম জানান, প্রতারক চক্রের ওই সদস্য কৌশলে তাকে বিভিন্ন কথা বলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও অবশ করে ফেলেন (শয়তানের নিশ্বাসের প্রভাব)। একপর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গলার একটি চেইন, সুইসোতা কানের দুল ও লকেটসহ প্রায় ৭ আনা স্বর্ণালংকার প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা। পরে বাঁকাইল কামার বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে প্রতারকরা তাকে অন্য একটি ইজিবাইকে তুলে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
​এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মরিয়ম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন