• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বাকেরগঞ্জে চাল আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের উপর হামলা,প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ পাওয়া যায় নি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৩৫ পিএম;
বাকেরগঞ্জে চাল আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের উপর হামলা,প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ পাওয়া যায় নি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

বাকেরগঞ্জে ‘চাল আত্মসাৎ’ অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা: বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ মেলেনি।।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে একটি দলবদ্ধ জনতা (মব) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।রবিবার (৯ মার্চ) দুপুর প্রায় ১টার দিকে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ইউনিয়নে ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকালে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন।ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।তবে তদন্ত চলাকালীন সময়েই পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা সোহেল সিকদারের নেতৃত্বে উপস্থিত কিছু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরেই চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে চেয়ারম্যানকে মারধর করতে করতে পরিষদ ভবনের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি দৌড়ে পুনরায় পরিষদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন। অন্যরা প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে কয়েকজনকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।এ বিষয়ে তদন্ত করতে আসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ বলেন, “চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের প্রাথমিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় আমিও সামান্য আহত হয়েছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।”ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক জিয়াউল হক আকন। তিনি বলেন, “প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।”এদিকে চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বরিশাল জেলা ইসলামী আন্দোলনের সদস্য হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার ও ছাত্রদলের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক রাকিব মোসাব্বিরের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নয়ন খান, যুবদল নেতা জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলাদার, এনামুল এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম সিকদারসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, “নিয়ামতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর আমরা পেয়েছি। দলীয়ভাবে বিষয়টি আলোচনা করে যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার বলেন, “চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগের খবর পেয়ে আমরা তদন্তের উদ্দেশ্যে পরিষদে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তা আমরা বুঝতে পারিনি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “চাল আত্মসাতের অভিযোগ এবং চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ভিডিও আমরা দেখেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা বলেন, “হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে এ ধরনের হামলার ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ থাকলে তার আইনগত ও প্রশাসনিক তদন্তের পথ রয়েছে—কিন্তু জনতা সংগঠিত করে হামলার মতো ঘটনা বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন