ঝিনাইদহে রাস্তার অভাবে প্রায় বন্দিদশায় ২৫ পরিবার, কথা বলতে গেলে সাংবাদিককে মামলার হুমকি
ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ফূরসন্ধি ইউনিয়নের জিথড় গ্রামের মধ্যপাড়ায় রাস্তার কারণে বন্দীদশা হয়ে পড়েছে ২৫ টি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের। এই সমস্যা চলছে দীর্ঘ ১৮ বছর।
জিথোড় ভবানীপুর মৌজায় ৯ নং দাগের দেবোত্তর সম্পত্তির উপর দিয়ে এই মানুষগুলো যাতায়াত করত এক সময়। ১৮ বছর আগে এই গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর সুনীল মণ্ডল উক্ত দাগের পশ্চিম কোণের কোল ঘেঁষে মন্দিরের ঘর তৈরি করে। এই মন্দিরের দুই পাশেই রয়েছে দেবোত্তর খাস জমি। এই জমির পাশ ঘেঁসেই সুশীল মন্ডলের ১০৫৮ ও ১০৫৯ দাগের জমি । এই মন্দির তৈরীর সময় গ্রামের জনসাধারণ পশ্চিমের তার গা ঘেঁষে তৈরি করতে বাধা দিলে তখন সুশীল মন্ডল গ্রামের মানুষকে কথা দেয় মন্দিরের পাশ কোনা দিয়ে যে জায়গা আছে সেই জায়গা দিয়ে তারা যাতায়াত করবে তাতে তার কোন আপত্তি নেই। গ্রামের মানুষ সেটা মেনে নেয়। সুশীল মণ্ডল যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন সমস্যা হয়নি। তবে এই ২৫ পরিবারের মানুষের মানবতার জীবন যাপনের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্পের মাধ্যম দিয়ে রাস্তার দাবী উঠলে বাধা দেয় সুশীল মন্ডলের দুই ছেলে। সুভাষ মন্ডল ও সুমন মন্ডল। সুভাষ মন্ডল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মিয়া কুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক। তাদের দাবি আমাদের পৈতৃক জমির উপর দিয়ে রাস্তা নিয়ে যাওয়া যাবে না। কাঁচা রাস্তা থাকলে তাতে কোন সমস্যা নেই।
৯ নম্বর দাগে জমির উপর দুইটি মন্দির রয়েছে রয়েছে একটি সুশীল মন্ডলের সময় তৈরিকৃত মন্দির যেখানে বর্তমানে পূজা অর্চনা হয় না ।বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধিনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র নামে শিশুদের পাঠদান করানো হচ্ছে। পাশেই নতুন রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হয় ।
জনসাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকগণ উক্ত জায়গায় সরে জমিনে গেলে সুশীল মন্ডলের দুই ছেলে সুভাষ মন্ডল ও সুমন মন্ডল সাংবাদিকদের প্রতিচ্ছবি দেয় যে যা হয়েছে তা আর হবে না এবং তারা স্থানীয়ভাবে বসে সমস্যার সমাধান করবে।
উক্ত সমস্যা সম্পর্কে ফুরসন্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ শিকদারের সাথে কথা বললে সে বলে যে সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে কোন নিউজ করার দরকার নেই আমি বিষয়টা সমাধান করে দিচ্ছি। চেয়ারম্যান সময় নেন এক সপ্তাহ। উক্ত জায়গায় চেয়ারম্যান দুই দিন যান। প্রথম দিন সুশীল মন্ডলের এক ছেলে সুমন মন্ডল উপস্থিত না থাকায় সুভাষ মন্ডল সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয় আবার পুনরায় চেয়ারম্যান কে যেতে বলেন। পরে চেয়ারম্যান গেলে সুমন মণ্ডল উপস্থিত থাকলেও সুশীল মন্ডল অন্যত্র চলে যায় যার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। এই সময়ে সাংবাদিক ফেসবুকে সুভাষ মন্ডলকে জড়িয়ে স্ট্যাটাস দেয়।
তবে স্ট্যাটাস এর আগে শুশিল মন্ডলের দুই ছেলে সুবাস মন্ডল ও সুমন মন্ডল সাথে রাস্তার ব্যাপারে কথা হলে তারা বললেন আমাদের আর চাষের কোন জমি নেই, এই জমিটুকুই আমাদের আছে এই জমি দিয়ে আমরা রাস্তা দিতে পারবো না। তারা আরও বলেন যদি পুরাতন মন্দিরের সিড়ি ও বারান্দা কিছু অংশ ভেঙ্গে রাস্তা করা হয় সেক্ষেত্রে ভাঙ্গা গড়া বাবদ আমরা কিছু খরচ দিতে পারি।
এদিকে জিথড় মধ্যপাড়া গ্রামবাসীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন তাদের চলাচলের রাস্তা দরকার কিভাবে হবে সেটা আমরা জানিনা। কারন রাস্তার অভাবে আমাদের ছেলে - মেয়েরা ঠিকমত স্কুলে যেতে পারে না, বৃষ্টির সময় কাঁদার কারনে অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে যেতে হয়, মাঠের ফসল ঠিকমত ঘরে তোলা যায় না, লাঙ্গল গরু নিয়ে মাঠে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়, এমনি রাস্তার কারনে পরিবারের ছেলে মেয়েদের ভালো জায়গায় বিবাহও দিতে পারি না। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই গ্রামের কোন মানুষ মারা গেলে ঠিকমত মরদেহটিও সৎকাজের জন্য শ্মশানে নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। কোন গর্ভবতী মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হলেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। এরকম নানা রকম সমস্যার মধ্যদিয়ে আমরা এই গ্রামে বসবাস করি। আমরা চাই এই সমস্যার উত্তোরন হোক এবং সরকারি ভাবে আমাদের একটা চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।রাস্তার ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার টিপু বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে গ্রামে বহুবার বসাবসি করা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। দেখি আর একবার সবাইকে নিয়ে বসার চেষ্টা করবো।
গ্রাম্য মাতব্বর সুনিতি বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, রাস্তার ব্যাপারে বহুবার বসা হয়েছে কিন্তু গ্রামে দুইটা সামাজিক দল থাকায় সমস্যা সমাধানে আসতে পারিনি। একটা পক্ষ চাই না এই জায়গায় দিয়ে রাস্তা বের হোক ।কারন জিথড় মধ্যপাড়ার বাসিন্দারা বর্তমান চেয়ারম্যানের দল করে না।তাই তিনি এব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেন না।
এই অবস্থায় পুনরায় সুভাষ মন্ডলের সাথে রাস্তার ব্যাপারে কথা বললে সুভাষ মন্ডল এবার সাংবাদিককে হুমকি দিল। আপনি আমার নামে নিউজ করেছেন আপনার নামে আমি জিজি করব এবং মানহানি মামলা করব।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: