• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কুয়াকাটায় ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হলো ২ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৩ পিএম;
কুয়াকাটায় ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হলো ২ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বিশাল আকৃতির ইলিশ। মাছটি উন্মুক্ত নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট ৭ হাজার ৬১২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন জেলে সোহরাফ গাজী। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটার ‘মা মনি ফিশ’-এর ম্যানেজার মিজান।

জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পায়রা বন্দর সংলগ্ন পাইপ বয়া এলাকার গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই বড় ইলিশটি ধরা পড়ে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকার করে আসছেন। তিনি আরও জানান, সাগরে সচরাচর এত বড় আকৃতির ইলিশ পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর জালে এমন বড় ইলিশ পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং মাছটি ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মাছটি ক্রেতা ‘মা মনি ফিশ’-এর ম্যানেজার মিজান জানান, বর্তমানে মৎস্য আড়তগুলোতে এ ধরনের বড় ইলিশ সচরাচর দেখা যায় না বললেই চলে। শৌখিন ক্রেতা ও শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর পরিবারের জন্য মাছটি বিশেষ নজর কেড়েছে এবং তা সেখানে পাঠানো হবে। এ ধরনের বড় মাছ মৎস্য আড়তে আসলে জেলে ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই আর্থিকভাবে লাভবান হন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল মীর বলেন, “এত বড় ইলিশ সচরাচর চোখে পড়ে না। তবে এ ধরনের বড় মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকায় নিম্নআয়ের মানুষ ছোট ইলিশ বা জাটকা দিয়েই মেটান।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, “ছোট ইলিশের নির্বিচারে আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ হ্রাস, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহ-ব্যবস্থাপনার ঘাটতির ফলে বড় ইলিশের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া পানি দূষণ, প্লাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততার তারতম্যও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, “সাগরে বড় আকৃতির ইলিশ ধরা পড়া একটি ইতিবাচক সংবাদ, যা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বড় ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন থাকে, যা হৃদযন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় অত্যন্ত উপকারী। জালের প্রশস্ততা আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ইলিশ আরও বেশি পরিমাণে ধরা পড়বে।”

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন