• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. আইন ও আদালত

বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্তের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০৯ এএম;
বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

মামলা প্রত্যাহারে চাপ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হামলা—বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়েরের জেরে বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারপ্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনশী গ্রামের মৃত আলতাব হোসেন খানের পুত্র মোঃ আনোয়ার হোসেন খানের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল ওহাব খান ও খসরু খানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে আনোয়ার হোসেন খান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মোকদ্দমা নং এমপি ৩৪২/২০২৬, বাকেরগঞ্জ)।

মামলার প্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী পুলিশের পক্ষ থেকে বিবাদীপক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হলে অভিযোগ ওঠে, এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল বিকেলে বিবাদীপক্ষের কয়েকজন সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির কন্যা মোসাম্মৎ ঐশী আক্তার বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা সাধারণত জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ এড়াতে ব্যবহৃত হয়। আদালতের এমন নির্দেশ থাকার পরও যদি পক্ষগুলো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা শুধু আইনের অবমাননাই নয়, বিচারব্যবস্থার ওপরও সরাসরি চ্যালেঞ্জ।ঘটনাটি প্রমাণ করে, শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশ জারি করাই যথেষ্ট নয়—তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। নোটিশ প্রদান সত্ত্বেও যদি বিবাদীপক্ষ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একজন ব্যক্তি আইনগত আশ্রয় নেওয়ার পরও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। মামলা প্রত্যাহারের জন্য হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনের শাসনের ওপর আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক বা স্থানীয় বিরোধ নয়; বরং এটি বৃহত্তর পরিসরে আইনের শাসন, বিচারপ্রক্রিয়ার নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ বিরোধ ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন