নীরব প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া :বিজ্ঞান, রাষ্ট্রচিন্তা ও মানবকল্যাণে এক অনন্য অধ্
নজরুল ইসলাম আলীম:
আজ দেশবরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সহধর্মিণী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে এক নিরহংকার বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে, যিনি রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবকল্যাণে নীরবে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান।ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও দেশের বিজ্ঞানচর্চা, শিক্ষা ও জাতীয় অগ্রগতির ভিত নির্মাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবন ছিল মেধা, মনন, সততা ও দেশপ্রেমের এক অনুকরণীয় প্রতিচ্ছবি। তিনি শুধু একজন পরমাণু বিজ্ঞানীই ছিলেন না; ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তক, প্রজ্ঞাবান সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এক নীরব রাষ্ট্রনায়ক।রংপুরের পীরগঞ্জের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই কৃতী সন্তান ছাত্রজীবন থেকেই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তিনি দেশের পরমাণু গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি বিজ্ঞানকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। কৃষি, চিকিৎসা, শিল্প ও জ্বালানি খাতে পরমাণু প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর চিন্তা ছিল সুদূরপ্রসারী।ড. ওয়াজেদ মিয়ার ব্যক্তিজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ। তিনি কখনো সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে আসেননি, কিন্তু জাতীয় সংকট, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ১৯৭৫-এর পরবর্তী দুঃসময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞা ছিল এক অবিচল শক্তি।তিনি বিশ্বাস করতেন—একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠন অপরিহার্য। সেই কারণেই তিনি তরুণ প্রজন্মকে কুসংস্কারমুক্ত, যুক্তিবাদী ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান জানাতেন। তাঁর লেখনী, বক্তৃতা ও গবেষণাকর্মে বারবার উঠে এসেছে আত্মনির্ভরশীল, প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন।আজকের বাংলাদেশ যখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার অবদান আরও গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট সহ দেশের বৃহৎ প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন উদ্যোগগুলো তাঁর মতো বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও চিন্তার ধারাবাহিকতাকেই বহন করছে।ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন এক অনাড়ম্বর আলোকবর্তিকা—যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছে থেকেও ব্যক্তিগত বিনয়, শুদ্ধতা ও আদর্শকে কখনো বিসর্জন দেননি। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত জ্ঞানী মানুষরা কোলাহলে নয়, কর্মে নিজেদের পরিচয় রেখে যান।তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই প্রজ্ঞাবান বিজ্ঞানীকে। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণমূলক চিন্তা নতুন প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার এক অবিনাশী উৎস।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
- বিষয়:
- নীরব* প্রজ্ঞার,আলোকবর্তিকা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: