মৎস্যজীবীদের সাহসী উদ্যোগে রক্ষা পেল সদ্যোজাত হস্তিশাবক
গজলডোবায় মানবিকতার অনন্য নজির, মৎস্যজীবীদের সাহসী উদ্যোগে রক্ষা পেল সদ্যোজাত হস্তিশাবক।
বয়স মাত্র তিন থেকে চার দিন। মায়ের সঙ্গে তিস্তা পার হওয়ার সময় আচমকাই বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীর স্রোতে ভেসে যায় সদ্যোজাত এক হাতিশাবক। স্রোতের টানে তিস্তা ব্যারেজের উজান থেকে ভেসে এসে নদীর মাঝে আটকে পড়ে সে। ঠিক সেই সময় শাবকটির দিকে নজর পড়ে স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবীর। নিজেদের নৌকা নিয়ে তিস্তায় নেমে তাঁরা শুরু করেন উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় মৎস্যজীবী অজয় দাস, বাবলু দাস, গোপাল দাস, মিঠু দাস ও বিশ্বনাথ দাস নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নৌকা নিয়ে এগিয়ে যান শাবকটির কাছে। প্রাণপণ চেষ্টা করে জল থেকে শাবকটিকে টেনে নৌকায় তুলে আনেন তাঁরা। পরে নিরাপদে চরে নিয়ে আসা হয় তাকে।
এদিকে, মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ছোট্ট হাতিশাবকটি সমানে ডাকতে থাকে। তার সেই আকুল ডাক যেন ছুঁয়ে যায় উদ্ধারকারীদের মনও।
খবর পেয়ে বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের একাধিক রেঞ্জের বনকর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যুক্ত হন।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর গজলডোবার তিস্তার চর এলাকায় শাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। মায়ের কাছে পৌঁছতেই যেন স্বস্তি ফিরে আসে সকলের মধ্যে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে মা ও শাবকের পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উদ্ধারকাজে যুক্ত বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন দপ্তরের মতে, সদ্যোজাত হাতিশাবকটির সফল উদ্ধার এবং নিরাপদে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি বিরল ও আবেগঘন ঘটনা। স্থানীয় মানুষের সচেতনতা, সাহস এবং বন দপ্তরের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় এই উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই অভিযানে অজয়, বাবলু, গোপাল, মিঠু ও বিশ্বনাথের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘একরত্তি’ হাতিশাবকটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এলাকার মানুষের কাছে তাঁরা হয়ে উঠেছেন সত্যিকারের ‘হিরো’।
বন্যপ্রাণের প্রতি মানুষের এই মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার ঘটনাই যেন বার্তা দেয়—বেঁচে থাকুক মানবিকতা, নিরাপদ থাকুক বন্যপ্রাণী, সুন্দর হয়ে উঠুক প্রকৃতি।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: