• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বরগুনায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩০ পিএম;
বরগুনায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর ৫ দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি:

 

বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া এবং উত্ত্যক্তের অভিযোগ পুলিশকে জানানোর ক্ষোভে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ফয়সাল মৃধা নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। বখাটে ফয়সালের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথিতে শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং আরও দুটি দাঁত ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় শিশুটির ওপর এই হামলা চালানো হয়। পরে সহপাঠীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ফয়সাল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটি ঘরের বাইরে টয়লেটে গেলে ফয়সাল দরজার ফাঁক দিয়ে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির আত্মচিৎকারে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে ফয়সাল পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর শিশুটির মা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সালিশের মাত্র দুই দিন পরই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে সোমবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটির ওপর পাশবিক কায়দায় হামলা চালায় ফয়সাল।

আহত শিক্ষার্থী জানায়, ফয়সাল বিভিন্ন সময় তাকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করত। শনিবার রাতে কুবুদ্ধি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে সোমবার বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটির সাথে অনৈতিক কাজ করতে চাইলে মেয়েটির বাঁধার মুখে তাকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করে ফয়সাল। ঘটনাটি জানতে পেরে বরগুনার পুলিশ সুপার মো: কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নেন। তিনি বেতাগী থানার ওসি এবং ডিবিকে দ্রুত বখাটে ফয়সালকে আটকের  নির্দেশ দেন। পুলিশ বখাটে দুর্বৃত্তটিকে আটক করতে না পারলেও তার মাকে আটক করে।

ঘটনায় সোমবার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তার মা মোছা. শিরিনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বলেন, ‘গত শনিবার পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তখন ফয়সালের মা পুলিশে অভিযোগ করার কারণে আমাদের ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন।’ তিনি সোমবারের এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননী গোপাল মালাকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

এ বিষয়ে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফয়সালের মা শিরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন