কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নীতিমালা, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ‘কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা, ২০১২’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক নিজ নামে, অন্যের নামে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে কোনো শিক্ষক প্রশাসনিক বা অন্য কোনোভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক কোচিং করানোর জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারবেন না এবং ক্লাসে কম পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারবেন না।
কোচিংয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে মূল্যায়ন বা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ারও সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া কোনো শিক্ষক কোচিংয়ে না পড়া শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা প্রশ্নের নমুনা দেওয়ার মতো কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না। কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে কোনো শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি মোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে এর বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কার্যকর করার লক্ষ্যেই সরকার এ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
বরগুনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা যায় সকল প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য আছে। অধিকাংশ শিক্ষকের বাসায় চলে কোচিং বাণিজ্য। ছেলেমেয়েদের কোচিং এর ফ্রি জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে অভিভাবকরা। অচিরেই এর বিরুদ্ধে কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন। এ বিষয়ে বরগুনা জেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন আক্তার বলেন,আমাদের বরগুনাসহ সারা বাংলাদেশেই কোচিং বাণিজ্য চলে।কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালায় কোন শিক্ষক তার কর্মস্থল বা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং/ প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না।যদি কেউ পড়িয়ে থাকে তাহলে এটি অন্যায়।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: