• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ আগষ্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মনোহরদীর ওসির দুই কোটি টাকার ফ্ল্যাট! সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, নীরব প্রশাসন?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৩৪ পিএম;
মনোহরদীর ওসির দুই কোটি টাকার ফ্ল্যাট! সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, নীরব প্রশাসন?

নরসিংদীতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক জেলা প্রধান এবং বর্তমানে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশার বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ উঠেছে। একজন কর্মরত সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়, ঘোষিত সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে কথিত এ সম্পত্তির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী শহরের এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের পূর্ব পাশে অবস্থিত ১৬ তলা ভবন ‘স্বপ্ন পার্কে’ ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি তাঁর নিজের নামে এবং অপরটি তাঁর স্ত্রীর নামে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ফ্ল্যাট দুটির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জাহাঙ্গীর বাদশা নরসিংদীতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের জেলা প্রধান (ডিআইও-১) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে মনোহরদী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নামে ও তাঁর স্ত্রীর নামে কথিত সম্পত্তির বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়, সঞ্চয়, পারিবারিক সম্পদ ও অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি অর্জনের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কথিত ফ্ল্যাট দুটির দলিল, নামজারি, রেজিস্ট্রি মূল্য, প্রকৃত ক্রয়মূল্য, ব্যাংক লেনদেন এবং আয়কর নথি যাচাই করা হলে সম্পত্তি অর্জনের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে এসবিতে দায়িত্ব পালনের সময় জাহাঙ্গীর বাদশার ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাঁর দায়িত্বকালীন কার্যক্রম, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এবং জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁর ভূমিকার বিষয় দুটি পৃথকভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ওসি জাহাঙ্গীর বাদশার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “আপনারা তদন্ত করে দেখেন।”

একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেই তথ্যও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের দলিল, মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন ও আয়কর নথি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; একইভাবে গুরুতর কোনো অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ অনুসন্ধানও জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই জাহাঙ্গীর বাদশার কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন