• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেরুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. সারাদেশ

তেঁতুলিয়ায় গ্রামপুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত লিখতে পারেন নাই ৩৮ প্রার্থীর কেউই


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩১ পিএম;
তেঁতুলিয়ায় গ্রামপুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত লিখতে পারেন নাই ৩৮ প্রার্থীর কেউই

মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : 

 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রামপুলিশ নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে একজনও শুদ্ধভাবে দেশের জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। ফলে মেধা যাচাইয়ের এই প্রাথমিক ধাপেই সব প্রার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছেন এবং স্থগিত হয়ে গেছে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি শূন্য পদের বিপরীতে মোট ৩৮ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। উপজেলা প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়।

শারীরিক পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার পর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের মেধা ও দেশপ্রেম যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রার্থীদের ১৫ মিনিট সময় দিয়ে আমাদের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' লিখতে বলা হয়। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ এবং শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীতটি লিখতে সক্ষম হননি।

সব প্রার্থী ফেল করায় ওই পাঁচটি শূন্য পদে কোনো নিয়োগ দিতে পারেনি বাছাই কমিটি। কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় সব প্রার্থীর অনুত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু গভীর বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন,"শারীরিক যোগ্যতা যাচাইয়ের পর আমরা চেয়েছিলাম প্রার্থীদের মেধা ও সাধারণ জ্ঞান দেখতে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় যে, একজন প্রার্থীও আমাদের জাতীয় সংগীতটি সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান এবং দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।"

জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে প্রার্থীদের এমন অজ্ঞতার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন, গ্রামপুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দেশপ্রেম থাকা আবশ্যক। তবে মেধার সাথে আপস না করে অযোগ্যদের নিয়োগ না দেওয়ায় নিয়োগ কমিটির স্বচ্ছতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 

 

দৈনিক পুনরুত্থান / মাহামুদুল ইসলাম জয়, 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন