বরগুনায় জোরপূর্বক দীর্ঘদিন সম্পত্তি দখল করে রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও স্বপন চন্দ্র ঘোষ নামের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পৈত্রিক ও খরিদসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাস নামের এক ব্যাক্তি।
একই সঙ্গে সম্প্রতি সুভাষ ঘোষের করা সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮াটায় বরগুনা সদর উপজেলার ২নম্বর গৌরিচন্না ইউনিয়নের ভুতমারা এলাকায় তার নিজ বাড়ির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি এলাকার মৃত লোকনাথ বিশ্বের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, প্রায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও তার ভাই স্বপন ঘোষ তার নানা ও দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি এবং তাদের কবলাকৃত সম্পত্তি দখল করে ভোগদখল করে আসছেন। একাধিকবার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেও ফল না পেয়ে ২০১১ সালে বরগুনার আদালতে বণ্টন ও বিএস রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় সুভাষ ও স্বপন ঘোষ পক্ষভুক্ত হয়ে বর্ণনামা দাখিল করেছেন বলেও দাবি করেন বিপ্লব।
মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিরোধীয় সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া সুভাষ ঘোষ সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীয় সম্পত্তিতে ৯ একর মালিকানা দাবি করলেও পরদিন তার ভাই স্বপন ঘোষকে বাদী করে করা একটি মামলায় ৭ দশমিক ৮৭ একর সম্পত্তির মালিকানা দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিপ্লব বিশ্বাসের আরও অভিযোগ, সুভাষ ঘোষ ১২ থেকে ১৩ একরের বেশি জমি দখলে রেখেছেন। এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত প্রায় ১৩ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা কেটে সমতল করে প্লট তৈরির অভিযোগও করেন তিনি।
তার দাবি, এসএ নকশায় রাস্তার অস্তিত্ব থাকলেও পরবর্তী বিএস জরিপে সেটি ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ওই জায়গায় প্রায় ৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা থাকায় জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলে সমস্যা হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব বিশ্বাস আরো বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে তিনি ও অন্যান্য অংশীদার নিজেদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে সুভাষ ঘোষ তাদের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নেয়।
উভয় পক্ষ তাদের কাগজপত্র সালিশকারীদের কাছে উপস্থাপন করে এবং একটি রোয়েদাদনামা তৈরি করা হলেও আটজনের মধ্যে পাঁচজন তাতে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবের দাবি করেন, সম্পত্তির অংশ বণ্টনের আগেই সুভাষ ঘোষ ভারতে চলে যান। অথচ পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন ও মামলায় তিনি ভারতে অবস্থানের কথা উল্লেখ করলেও দলিলে কীভাবে স্বাক্ষর করেছেনএ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আমি সুভাষ চন্দ্র ঘোষ বা তার ভাই স্বপন চন্দ্র ঘোষের কোনো জমি দখল করিনি।
একই দাগ-খতিয়ানে থাকা আমার পৈত্রিক ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া এবং খরিদকৃত জমিতেই কাজ করেছি। এর পক্ষে দলিলপত্র রয়েছে।
সুভাষ ও স্বপন ঘোষের দাবিকৃত ৭ দশমিক ৮৭ একর জমি পাশেই খালি পড়ে আছে। ওই জমি থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির জন্য বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাস সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও স্বপন চন্দ্র ঘোষকে তাদের নিজ নিজ কাগজপত্র নিয়ে প্রকাশ্যে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দলিলপত্র যাচাই করে আইনজীবীরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা তিনি মেনে নেবেন। এ বিষয়ে সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও স্বপন চন্দ্র ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: