• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

ফরিদপুরে ট্রাকের বেপরোয়া গতিতে আহত ১০, গণপিটুনিতে চালক নিহত


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ০২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৬ পিএম;
ফরিদপুরে ট্রাকের বেপরোয়া গতিতে আহত ১০, গণপিটুনিতে চালক নিহত

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালিয়ে একাধিক পথচারীদের আহত করার পর স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে হান্নান (২৯) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার দিনগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাকচালক হান্নানের বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর এলাকায়। আহতরা হলেন, ট্রাকের হেলফার সালথা উপজেলার সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. নাঈম (২২) ও একই উপজেলার কাগদী এলাকার বাসিন্দা মো. আল-আমিন (২৫)। আহতদের একজন ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতাল এবং অপরজন ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১২-৭৩৩২) বেপরোয়া গতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে চলাচল করছিল। ট্রাকটির বেপরোয়া গতির কারণে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাকটি রসুলপুরসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটির ধাক্কায় অন্তত ২০ জন পথচারী আহত হয়েছেন। পরে ট্রাকটি নগরকান্দা উপজেলার বিলনালিয়া নতুন বাজারে মুন্সী স্টোরে সজোরে ধাক্কা দিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেটির গতিরোধ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকচালক, হেলপারসহ তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে ট্রাকটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ এবং তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ধারনা করা হচ্ছে ট্রাক ড্রাইভার একটি সরুগলি রাস্তায় ট্রাক নিয়ে যাচ্ছিল। এই সময় একজন পথচারীর সাথে ট্রাকের থাক্কা লাগে। সেখানে উপস্থিত জনতা ট্রাকটিকে ধাওয়া করলে চালক দ্রুত সেখান থেকে সরে আসতে গিয়ে পতিমধ্যে আরও কয়েকজন পথচারিকে ধাক্কা দিয়ে আহত করে। পথচারীরা ট্রাকটিকে আটকানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠে এবং সামনে জানালে তারা পথে গতিরোধ করে। এই সময় একটি দোকানের সামনে বসার বেঞ্চে ধাক্কা দিয়ে বেঞ্চটি ভেঙ্গে ফেলে। সেখানে উপস্থিত জনতা ট্রাকটিকে আটক করে ড্রাইভার ও তার দুই হেলপারকে ধরে ফেলে। অতি উৎসাহী কারো উসকানীতে জনাতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং ড্রাইভার ও হেলপারদ্বয়কে বেদম প্রহর করে । এই গণপিটুনীতে ড্রাইভার হান্নান মারা যান এবং গুরুতর আহত হেলপার দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এর আগেই স্থানীয়রা ট্রাকচালকসহ তিনজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে ট্রাকচালক হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নিহত চালকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারিবারিক সুত্রে সর্বশেষ সংবাদে জানা যায়, সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের সাতৈর কবরস্থানে জানাজা শেষে বাদ আসর মরহুমের মরদেহ দাফন করা হবে। নিহত হান্নানের মা নার্গিস বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে যদি অন্যায় করে থাকে, তা হলে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হলো না কেনো। কেনো আমার সন্তানকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো ? আমি এর সঠিক বিচার চাই। বাবা সাহিদ শেখ বলেন, প্রশাসনের কাছে আমার জোর দাবী আমি যেন আমার ছেলের হত্যার বিচার পাই। তিনি দাবী করেন, যারা মব করে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে তাদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন