• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

ফরিদপুরে আলোচিত শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, ৩জন আটক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৮ পিএম;
ফরিদপুরে আলোচিত শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, ৩জন আটক

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরে বহুল আলোচিত শিশু আইরিন আক্তার হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন। এ সময় কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, কোতয়ালী থানাধীন গেরদা ইউনিয়নের বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার (৭)-কে স্থানীয়ভাবে ‘বিনা’ বা ‘কবিতা’ নামে ডাকা হতো, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কবিতা।  পরদিন ২৫ এপ্রিল তার বাবা বাকা মিয়া বিশ্বাস কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-১৯২২।
পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাখুন্ডা এলাকার একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাত দন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় একই দিন কোতয়ালী থানায় মামলা নং-৮৪ (জিআর নং-৩২৯/২৬) দায়ের করা হয়, যেখানে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।
ঘটনার পর কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তদন্ত করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইসরাফিল মৃধা চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে শিশুটি বিষয়টি পরিবারকে জানাবে এ আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধ করে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করতে একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়।
নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিন ও অপর ছেলে রহমানকে লাশ সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেন। তারা ট্যাংক থেকে মরদেহ তুলে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে করে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন