মনোহরদীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, রক্তাক্ত ৪
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের দাইরেরপাড় গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের কোপে ও লাঠিসোটার আঘাতে একই পরিবারের নারীসহ অন্তত ৪ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২:০০ টার দিকে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আঃ হাই দেওয়ান (৩৫) বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় চারজন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— কাউছার মিয়া (২৮), আব্দুল বাতেন দেওয়ান (৫০), আঃ হাসিম দেওয়ান ও জোসনা বেগম (৪৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ৪নং বিবাদী জোসনা বেগম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি, হুমকি ও নানাভাবে অত্যাচার করে আসছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও নৃশংসতা অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাইরেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আঃ হাই দেওয়ানের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আব্দুল বাতেন ও জোসনা বেগম গংদের দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিবাদী পক্ষ রাজনৈতিক ও জনবলের দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছিল। এই নিয়ে এলাকাভিত্তিক একাধিকবার সালিশ-দরবার বসলেও বিবাদীদের অন্যায্য দাবির কারণে কোনো মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি।
এরই জেরে গত ৩০ জুন দুপুরে বিবাদী পক্ষ রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আঃ হাই দেওয়ানের বসতবাড়ির সামনে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২নং বিবাদী আব্দুল বাতেনের হুকুমে ১নং বিবাদী কাউছার মিয়া ধারালো দা দিয়ে আঃ হাই দেওয়ানের জ্যাঠাতো ভাই আব্দুর রশিদ দেওয়ানকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার তালুতে কোপ মারে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্যান্য বিবাদীরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর হাড়ভাঙা জখম করে।
নারীদের শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার লুট
আক্রান্ত আব্দুর রশিদ দেওয়ানের আর্তচিৎকারে তাকে বাঁচাতে আঃ হাই দেওয়ান, তাঁর স্ত্রী বিলকিছ, বোন রুজিনা এবং চাচা আঃ রহিম দেওয়ান এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। লোহার রডের নির্মম আঘাতে বৃদ্ধ চাচা আঃ রহিম দেওয়ানের নাক ফেটে যায় এবং হাড় ভেঙে মারাত্মক জখম হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রুজিনা ও বিলকিছের পরিহিত কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ সময় ৩নং বিবাদী আঃ হাসিম দেওয়ান ভুক্তভোগী বিলকিছের গলা থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া হামলাকারীরা বসতঘরের প্রধান গেট ভাঙচুর করে প্রায় ১০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও বর্তমান পরিস্থিতি
আক্রান্তদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বিবাদীদের কবল থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে উদ্ধার করে এবং দ্রুত মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। আহত আব্দুর রশিদ ও আঃ রহিম দেওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত জোসনা বেগম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকায় সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, জমি দখল ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান জাকিরের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এতদিন তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। বর্তমানেও মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আসামিরা প্রকাশ্যে খুন করার হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
মনোহরদী থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: