তিনশ বলে ১৬০, টাইগাররা কি পারবে ৪১ রানে জিততে
আফগানিস্তানের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গেই ব্যাটিং দৈন্যদশা ফুটে ওঠল টাইগারদের। ত্রিদেশীয় সিরিজের অঘোষিত ‘‘ফাইনাল’’ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই অলআউট বাংলাদেশ।
এই মামুলি স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে ৪১ রানে জিততে। না পারলে শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে দর্শকের ভূমিকায় থাকবে টাইগাররা।
৮ জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি। ওপেনার সৌম্য সরকার, অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় আর স্পিনার আলিস আল ইসলাম ফেরেন শূন্য রানে।
বুধবার আরব আমিরাতের শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের কঠিন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়ে যান- তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়রা।
সিরিজের ফাইনালে খেলতে হলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে নামার আগেই যখন এমন সমীকরণ, তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার পরিবর্তে আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেন প্রথম সারির ৪ ব্যাটসম্যান।
৭ ওভারে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ওপেনার সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। পঞ্চম উইকেটে তারা ১৪৭ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৯৩ রানের জুটি গড়েন।
দলকে খেলায় ফেরাতে টেস্টের আদলে ব্যাট চালান সাইফ-ইমন। তাদের রান তোলর স্লোথ গতির কারণে স্কোর কাঙ্খিত ভাবে মোটাতাজা হয়নি।
৩১ ওভার তথা ১৮৬ বল খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে মাত্র ১২০ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেখানে বলে বলে রান তোলার কথা সেখানে ৬৬ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
৪৯ ও ৪১ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানের কাছে প্রত্যাশা ছিল; দলকে এগিয়ে নিতে হাত খুলে ব্যাট চালাবেন তারা। কিন্তু ৩২তম ওভারের তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন সাইফ।
তিনি ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে ৩১.৩ ওভারে ক্যাচ তুলে বিদায় নেওয়ার আগে ৮২ বলে করেন মাত্র ৪১ রান করেন। তার মানে তিনি ১ রান করতে খেলেন ২ বল।
সাইফ আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ বলে মিরাজের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২ রান। হাত খুলে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি।
মিরাজ আউট হওয়ার পর ‘‘ওয়ানম্যান শো’’ হয়ে পড়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। পুরো ৫০ ওভার পর্যন্ত দলকে টেনে নিতে হলে তাকে খেলতে হয়ে রয়ে সয়ে। বড় শট খেলার সামর্থ থাকলেও, উইকেট ধরে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য হয়ে পরে।
৩৭.৩ ওভারে দলীয় ১৪৭ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন পেস বোলার শরীফুল ইসলাম। ইমনকে সঙ্গ দিতে নামেন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম।
বোলারদের নিয়ে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলার তাগিদে ব্যাট করে যাওয়া ইমন বিপদে পড়ে যান ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে। রশিদ খানের গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ইমন। দলীয় ১৫৬ রানে আউট হওয়ার আগে ইমন করেন ৯৬ বলে সর্বোচ্চ ৭০ রান। তার ইনিংসটি ৫টি চার আর দুটি ছক্কায় সাজানো।
ইমন আউট হওয়ার পর অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: