বরিশাল ডিসির বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ম্যাজিস্ট্রেট হয়রানির গুরুতর অভিযোগ”
“ভোট বরাদ্দে কোটি টাকার কারসাজি? বরিশাল ডিসির বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ম্যাজিস্ট্রেট হয়রানির গুরুতর অভিযোগ”
নজরুল ইসলাম আলীম:
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়ম, নির্বাচনী বরাদ্দে কারসাজি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্ফোরক অভিযোগ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন খাতে কোটি টাকা আত্মসাৎ, নির্বাচনী ব্যয়ে জালিয়াতি এবং অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর মানসিক ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনী কার্যক্রমে অতিরিক্ত বরাদ্দ এনে তা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের বিষয়টি।সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানায়, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার দুর্গম ভোটকেন্দ্র এবং অতিরিক্ত ভোটকক্ষের সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ব্যয় সীমিত থাকলেও বরাদ্দের বড় অংশ ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পারিশ্রমিক ও ভাতা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরাদ্দ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করে কম টাকা প্রদান এবং বাকিটা ভাউচার সমন্বয়ের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ভুয়া বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।সূত্র বলছে, প্রতিবাদকারী কর্মকর্তাদের কেউ কেউ আকস্মিক বদলি, দপ্তর পরিবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার শিকার হয়েছেন। এমনকি বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের নীরব থাকতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের ভেতরে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগ শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। জেলা প্রশাসনের অন্যান্য খাতেও অনিয়মের বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে। ত্রাণ তহবিল, ডিসি বাংলো সংস্কার, জাতীয় দিবস উদযাপন এবং প্রচার কার্যক্রমের নামে ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনী কন্ট্রোল রুম পরিচালনার বরাদ্দেও অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি কেবল ব্যক্তি দুর্নীতির ঘটনা নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ভয়াবহ দুর্বলতার প্রতিফলন। বিশেষ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত দাপ্তরিক নথিপত্র, বিল-ভাউচার এবং প্রশাসনিক আদেশের কপি সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া এসব তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কিছু নথি জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমের কাছেও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে মাঠ প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সংকটে পড়তে পারে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: