মাগুরা পৌর বাস টার্মিনাল থেকে যুবদল নেতার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
বিশেষ প্রতিনিধি :
মাগুরার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেন(৩৮)এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে বাস টার্মিনালের 'রয়েল এক্সপ্রেস' পরিবহনের কাউন্টারের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই কাউন্টারের মাস্টার (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্টারের লোকজন ভোরে সাকের হোসেনকে কাউন্টারের ভেতরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইনুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল এবং তার মাথার পেছনে একটি গভীর ছিদ্র বা ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহত সাকেরের পরিবার, স্বজন এবং সহকর্মীদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের দাবি, রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে ভোররাতে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা কাউন্টারে ঢুকে তাকে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে এবং বিগত ১৭ বছরে তার বিরুদ্ধে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল বলে জানা গেছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, নিহতের মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ক্ষতটি নিশ্চিতভাবে গুলির কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট) ছাড়া এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ ও সিআইডি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার পর মাগুরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: