উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নেপথ্যে কারা !
জাহিদ মিয়া, উত্তর খানা, ঢাকা :
রাজধানীর উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, উত্তরখান থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি হাবিবুর রহমান এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছেন। আর এসব কঠোর পদক্ষেপের কারণেই দীর্ঘদিনের সুবিধাভোগী কিছু অসাধু চক্র এখন অস্বস্তিতে পড়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপরাধ দমনে জোরালো ভূমিকা :
থানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওসি হাবিবুর রহমান নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল, চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার এবং রাতব্যাপী টহল কার্যক্রম জোরদার করেন। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বর্তমানে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কারণে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
অপপ্রচারে সক্রিয় অসাধু চক্র :
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া একটি সুবিধাভোগী মহল এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ওসি হাবিবুর রহমানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য, যখনই কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন, তখনই একটি গোষ্ঠী তাকে টার্গেট করে। উত্তরখানের বর্তমান পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়।
তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং পুলিশের চলমান অভিযান বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
"অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক, ছাড় নয়"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরখান থানার ওসি
হাবিবুর রহমান বলেন,
আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। অপরাধী যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
তিনি আরও বলেন,
"অপপ্রচার চালিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তবে এসব দেখে আমরা পিছিয়ে যাব না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।"
পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে স্থানীয়দের
উত্তরখান এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় পুলিশের তৎপরতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নিয়মিত টহল ও অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষ নিজেদের বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "ওসি হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকায় অপরাধ অনেক কমেছে। এখন রাতেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে অপরাধ করতো তারাই এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, "আগে চাঁদাবাজদের কারণে ব্যবসা করা কঠিন ছিল। এখন পুলিশ কঠোর হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।"
সুশীল সমাজ যা বলছে :
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, অপরাধ দমনে কঠোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো পুরোনো কৌশল। এর মাধ্যমে একদিকে কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করা হয়, অন্যদিকে অপরাধচক্র নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে।
তাদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তবে ভিত্তিহীন প্রচারণা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
জনগণের প্রত্যাশা অভিযান চলুক :
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উত্তরখানে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে ঘিরে অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা জড়িত, সেটিও খতিয়ে দেখার জানিয়েছেন তারা।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
- বিষয়:
- উত্তরখান* থানার,ভারপ্রাপ্ত
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: