• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

পাথরঘাটায় জামায়াত নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ,থানায় মামলা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৯ পিএম;
পাথরঘাটায় চিফ হুইপের ভাগ্নে, নয়নসহ ২০ জনের নামে থানায় মামলা

হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার পাথরঘাটায় কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের ওপর হামলা, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনির ভাগনে হিসেবে পরিচিত ইব্রাহীম খলিল নয়নসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলায় ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ২০ অক্টোবর শামীম আহসানের স্ত্রী ওজিফা আক্তার বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে নাম উল্লেখ করা আটজনকে বিএনপির কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কিরণপুর মাদ্রাসার কাছে শামীম আহসানের পথরোধ করেন মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহীম খলিল নয়ন। এ সময় তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করলে শামীম আহসান নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। তবে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এর দুই দিন পরই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে পাথরঘাটার কেরামতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় শামীম আহসানের গতিরোধ করা হয়। এ সময় ইব্রাহীম খলিল নয়নের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, স্টিলের টেলিস্কোপিক ব্যাটন, জিআই পাইপ ও লাঠিসোঁটা ছিল। এসব দিয়ে শামীম আহসানের বুক, মাথা, দুই হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শামীম আহসানের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয় লোকজন আহত শামীম আহসানকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শামীম আহসান এর আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও ইব্রাহীম খলিল নয়নের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন বলে বাদী অভিযোগ করেছেন। এজাহারে বর্ণিত আগের ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁদা দাবি, হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন