ইলেকট্রিশিয়ানকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে আতঙ্কে পুলিশ পরিদর্শকের অকাল মৃত্যু
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় নির্মাণাধীন নিজ ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলাকালে ইলেকট্রিশিয়ানকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আবীর হোসেন (৫৫) নামে এক পুলিশ পরিদর্শক। একই ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল আজিজ নামে এক ইলেকট্রিশিয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট খোদাবক্স সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবীর হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবু বকর মোল্লার ছেলে। তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া সার্কেল অফিসে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ছুটিতে তিনি নিজ বাড়িতে এসেছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে গোয়ালচামট খোদাবক্স সড়কে আবীর হোসেনের চারতলা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছিলেন ইলেকট্রিশিয়ান আব্দুল আজিজ। কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ দৃশ্য দেখে ভবনটির মালিক আবীর হোসেন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন। ঘটনার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত আবীর হোসেন ও আহত ইলেকট্রিশিয়ান আব্দুল আজিজকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ইলেকট্রিশিয়ানকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আহত হওয়ার ঘটনাটি দেখার পর পুলিশ পরিদর্শক আবীর হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে হৃদ্ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আবীর হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুর খবর তাঁর গ্রামের বাড়ি আলফাডাঙ্গার গোপালপুরে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে গভীর বিষণ্নতা। দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান সাইফুল বলেন, আবীর হোসেনের এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের ও ভালো মনের মানুষ। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার যেমন একজন আপনজন হারিয়েছে, তেমনি এলাকাবাসীও একজন পরিচিত মানুষকে হারাল। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে মরদেহ গ্রহণের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গোপালপুর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। পরে স্থানীয় গোপালপুর সামাজিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: