পটুয়াখালীর পায়রার ভাঙনে দুমকির শতাধিক পরিবার নিঃস্ব, শেষকৃত্যের জায়গাটুকু রক্ষার দাবি
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গোরস্থান, মসজিদ, মন্দির, কৃষিজমিসহ প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নতুন করে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী। তবে ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অবিলম্বে শেষকৃত্য বা দাফনের জায়গাটুকু রক্ষার দাবি জানিয়েছেন অসহায় এলাকাবাসী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বর্তমানে নদীর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আলগী গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের আশপাশের প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে পুরো আলগী গ্রামে চরম ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদীতীরে বসবাসকারী পরিবারগুলো তাদের শেষ সম্বল বসতঘর ও মালামাল রক্ষা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির জানান, বিগত ৫-৬ বছরে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পায়রা নদীর ভাঙনে অন্তত শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, বাগান, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আলগী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, নিতাই, সুবাস ও আলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জনপ্রতিনিধিরাও তাদের তেমন কোনো খোঁজখবর নেননি। অসহায় পরিবারগুলোর বেশিরভাগই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ আবার পরিবার-পরিজন
নিয়ে জীবিকার তাগিদে অন্য শহরে চলে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বলেন, ‘মোগো এহোন ভগবান ছাড়া কেউ নাই। বাড়িঘর, কৃষিজমি সব সর্বনাশা পায়রা নদী নিয়া গেছে। মোরা সরকারের কাছে এহোন মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই।’
পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গাজী নজরুল ইসলাম নদীভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পায়রা নদীর ভাঙনে ইউনিয়নের আলগী গ্রামটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, তাও এখন তীব্রভাবে ভাঙতে শুরু করেছে।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: