বাউফলে সেনাসদস্যের জমি দখলের চেষ্টা, মারধরের অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে এক সেনাসদস্যের কেনা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নাজিরপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ রুমা আক্তার ও তাঁর স্বামী স্বপন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির বেড়া ও গাছপালা কেটে সরিয়ে ফেলা এবং বাধা দিতে গেলে ক্রেতার ভাইকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায় তাঁতেরকাঠি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা মীর হাসান।
ভুক্তভোগী সেনাসদস্য মীর হাসান জানান, প্রায় আট মাস আগে তিনি তাঁর চাচা হালিম মীরের কাছ থেকে ৩ শতাংশ জমি কেনেন। ক্রয়ের পর থেকেই জমিটি তাঁর শান্তিপূর্ণ দখলে রয়েছে। হালিম মীরের মোট ২২ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ওই ৩ শতাংশ তাঁকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মীর হাসানের অভিযোগ, জমিটি নিয়ে হালিম মীরের ভাগ্নে শাহাবুদ্দিন সিকদারও ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবি করে আসছেন। এই বিরোধের জের ধরে প্যানেল চেয়ারম্যান রুমা আক্তার ও তাঁর স্বামী স্বপন চৌধুরী পক্ষ নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় জমির চারপাশের বেড়া ও গাছপালা তুলে ফেলা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে তাঁর মেজো ভাইকে মারধর করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে শাহাবুদ্দিন সিকদার বলেন, জমিটি তাঁর মায়ের সম্পত্তি এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সেটি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে জমিটি তাঁদের দখলেই রয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান বা তাঁদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, বরং উল্টো প্রতিপক্ষ লোকজন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে।
জমির প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করে বিক্রেতা হালিম মীর বলেন, জমিটি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি। মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য তিনি ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। তাঁর বোনের ওয়ারিশদের জন্য অন্য দাগে জমি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তারা বিক্রি করা জমির পুরো অংশই দাবি করছেন। এ বিষয়ে অন্য দাগ থেকে জমি বুঝিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নাজিরপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ রুমা আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তবে ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জমির কাগজপত্রের সঠিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হলে প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: