ক্যাসিনো মতিনের অপকর্মে দিশেহারা চরশাহী ইউনিয়ন, যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর চরশাহী ইউনিয়নের বসুরহাট বাজারে চায়ের দোকানের আড়ালে অনলাইন ক্যাসিনো ও মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মতিন ওরফে 'ক্যাসিনো মতিন' নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড নুরুল্লাপুরের মোল্লা বাড়ির মৃত আনোয়ার উল্যার ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মতিন ও তার ছেলে শামীম হোসেন এলাকায় অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যার কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে স্থানীয় যুবসমাজ।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বসুরহাট বাজারের পুরাতন ব্রিজ সংলগ্ন চায়ের দোকানটিকে কেন্দ্র করে আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। যুবসমাজকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এই মরণনেশায় লিপ্ত করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী পিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ছেলে মতিনের দোকানে আড্ডা দিতে গিয়ে মাদক ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছালে বাধ্য হয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে বিদেশে পাঠিয়ে দিই। "
এলাকাবাসী জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মতিন ও তার ছেলে শামীম হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের বাধার মুখে মাদক ব্যবসা কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।এদিকে, এই অপকর্মের প্রতিবাদ করায় উল্টো আইনি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজকে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফাহাদ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রনিসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী ও যুবকের বিরুদ্ধে থানায় একটি চাঁদাবাজির 'মিথ্যা মামলা' ঠুকে দিয়েছেন মতিন। এই মামলায় বর্তমানে ফাহাদ কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থাকা ফাহাদের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কিছু ব্যক্তির ইন্ধনে মতিন এই মিথ্যা মামলা করেছেন। যা মতিনের সাথে ফাহাদের কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড এ মতিনকে বলতে শুনা যায়।
ফাহাদের পরিবারের এক সদস্য বলেন, "মামলার পর আমরা মতিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেছিলেন ওপরের মহলের চাপে ফাহাদের নাম দিতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তিনি আমাদের কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। " ফাহাদ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এবং সম্প্রতি পিকআপ গাড়ি কেনার জন্য এনজিও থেকে লোন নেওয়ায়, তার অনুপস্থিতিতে অসুস্থ বাবা-মাকে নিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মতিনের দোকানে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুয়া ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। তিনি বলেন এবিষয়ে পরে কথা বলবেন। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যুবসমাজকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং 'ক্যাসিনো মতিন' ও তার পেছনের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: