• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর থেকে কনেকে চিনতে পারছেন না বর! অতঃপর


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৩৩ পিএম
বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর থেকে কনেকে চিনতে পারছেন না বর! অতঃপর

বিয়ের আয়োজন, নতুন জীবনের স্বপ্ন— সবই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বর রায়হান কবিরের অভিযোগ, বিয়ের আগে তাকে যে পাত্রী দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে বসে থাকা নববধূ সেই নারী নন; তিনি অন্য কেউ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বিয়ের আনন্দ রূপ নিয়েছে সন্দেহ, উত্তেজনা ও মামলার জটিলতায়।

‘কনে বদল’-এর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এখন ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।

জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভাণ্ডার এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত বরকে যেতে হয়েছে কারাগারে।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ আগস্ট জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে একই জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের বিয়ে হয়।

ওই রাতেই কনে বদলের অভিযোগ তোলেন বর ও তার পরিবার। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।

পরে গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। এর কয়েক দিন পর ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে পাল্টা মামলা করেন।

উভয় পক্ষের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরের মামা বাদল জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাই মাসের শেষের দিকে রাণীশংকৈলের শিবদীঘি এলাকার একটি চায়ের দোকানে ঘটক একটি মেয়েকে দেখান। মেয়েটিকে পছন্দ হওয়ায় তারা বিয়ের সম্মতি দেন। পরবর্তী সময়ে মেয়েপক্ষের লোকজন ছেলেপক্ষের বাড়িতে এসে আত্মীয়তার প্রস্তাব দেয় এবং নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়।

তিনি বলেন, ‘রায়হানের দুলাভাই মানিক মালয়েশিয়াপ্রবাসী, তিনি দ্রুত বিদেশে ফিরে যাবেন বলে আমরাও তাড়াহুড়া করে বিয়ের কাজ শেষ করি। ১ আগস্ট রাতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ভোরে বাড়ি ফিরি। কিন্তু অতিরিক্ত মেকআপের কারণে রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। বাসররাতে মেয়ে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারে, সে প্রতারিত হয়েছে। যে মেয়েকে আগে দেখানো হয়েছিল, তাকে কৌশলে বদল করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে পরদিন ২ আগস্ট মেয়েটিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

তবে কনে বদলের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন কনের বাবা জিয়ারুল হক। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ছেলেসন্তান নেই। তিন মেয়ের মধ্যে মেজো মেয়ে জেমিন আক্তার রাণীশংকৈল মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাকে ছেলেপক্ষ আমাদের বাসায় এসে দেখেই বিয়ে করেছে। ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হয়েছে, সেখানে কনে বদলের অভিযোগ হাস্যকর।’

জিয়ারুল হকের দাবি, বিয়ের পরদিন বরের পরিবার ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তিনি জমি বিক্রি করে টাকা দিতে চাইলেও সময় পাননি। এখন তাকে হেয় করতেই কনে বদলের গল্প সাজানো হচ্ছে।

ঘটক মোতালেব জানান, তিনি কোনো ভুল মেয়ে দেখাননি। পাত্রীর বাবার বাসাতেই মেয়ে দেখানো হয়েছিল এবং সব প্রক্রিয়া মেনেই বিয়ে হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ছেলের অভিযোগ হলো— প্রতারণা করে কনে বদল করা হয়েছে। আগে মীমাংসার শর্তে রায়হান কবির জামিনে ছিলেন। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন