উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপিত হলে জনগণের যে সুযোগ সুবিধা গুলো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপিত হলে জনগণের যে সুযোগ সুবিধা গুলো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে


১. বিচারিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে
২. অপরাধীকে তাৎক্ষণিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা যাবে। যেমন মারামারি হলে ফাটা মাথা নিয়ে সরাসরি আদালতে উপস্থিত হতে পারবে। পুলিশকে তদন্ত করতে দিয়ে রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সরাসরি মামলা আমলে গ্রহণ করে আইনানুযায়ী সমন/ওয়ারেন্ট ইস্যু করা যাবে।
৩. বাংলাদেশের অধিকাংশ বিরোধ ভূমি নিয়ে। উপজেলা পর্যায়ে আদালত গেলে জমিতে স্বয়ং বিচারক উপস্থিত হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবে।
৪. থানায় বেআইনি সালিশ-মীমাংসা ঠেকানো যাবে।
৫. তদন্তকার্যে পুলিশের গাফিলতি কার্যকরভাবে রোধ করা যাবে। একজন উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলায় সংঘটিত বিষয় সম্পর্কে সহজেই ওয়াকিবহাল হতে পারবে।
৬. লালফিতার দৌরাত্ম কমে যাবে
৭. উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে নির্বাহী কাজে ভারাক্রান্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর প্রয়োজন হবে না
৮. গ্রাম আদালতে শৃঙ্খলা আনাসহ তথাকথিত মাতব্বরদের (!) সালিশ বন্ধ করা যাবে
১০. সমন জারিতে বিলম্ব ও পেয়াদার সাথে যোগসাজশ করে সমন জারি দেখানো কার্যকরভাবে রোধ করা যাবে
১১. উপজেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড অফিস থাকলে বিচারপ্রার্থীগণ সহজে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও আইনি সেবা পাবে
১২. মেম্বার-চেয়ারম্যান কিংবা পাতিদের কাছে না গিয়ে লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃ ছোটো বিরোধের আপোস-মীমাংসা করা সম্ভব হবে
১৩. লিগ্যাল এইড অফিসার প্রো-এক্টিভ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে স্পট ভিজিট করে বিরোধ মীমাংসা করতে পারবে। স্থানীয় মাতব্বরদের দৌরাত্ম কমবে
১৪. মানুষের মধ্যে আইনি শিক্ষা বিষয়ে সচেতনতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে
১৫. উপজেলা পর্যায়ে আইনজীবীদের বিকাশ ঘটবে
১৬. পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে আইনজীবীদের জেলা সদরে গিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হবে না। নিজ বাড়ি হতেই নিয়মিত ওকালতি করতে পারবে।
১৭. বিচারকের সাথে রাজনীতিক, সাংবাদিক, দালাল বা সাধারণ মানুষ কারো মেশার সুযোগ নেই। বিচারকের অফিসেও কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। তাই বিচার বা বিচারক কাউকেই প্রভাবিত করতে পারবে না কেউ।
১৮. আদালতকে ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। টাইপ করা, প্রিন্ট ও স্ক্যান, ভেন্ডার, স্টেশনারি ইত্যাদি।
১৯. আদালতের রায় বা আদেশ বাস্তবায়ন বা ডিক্রিজারি সহজে ও কার্যকরভাবে করা যাবে
২০. জমি কার দখলে তা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করার সুযোগ দূরীভূত করা যাবে যদি আদালতকে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে দখল নির্ণয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়।এই রাষ্ট্রের ৪০-৪৫ টি মন্ত্রণালয়ের অফিস এবং অফিসার কাজ করে উপজেলায়। শুধু বিচার চাইতে জেলা সদরে আসতে হয়। বিচারের শুরু উপজেলা থেকেই হোক। তেমনি হাইকোর্টের বিচার বিভাগীয় সদরে বসে হোক। তাহলে পরিবর্তন আসবেই। শুধু ইতিবাচক আর ইতিবাচক পরিবর্তনই আসবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- আদালত
- সুযোগ সুবিধা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আপনার মতামত লিখুন: