বিশ্ববাজারে বিশ্বে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতকে ঘিরে ইউরোপিয়ান গ্যাসের দাম ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। বেঞ্চমার্ক ইরোপিয়ান গ্যাস ফিউচার্সের দাম বাড়ায় এক মেগাওয়াট-আওয়ারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়বে ৪৬ ইউরো। চলতি মাসের প্রথম তিন দিনে ইউরোপিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এদিকে গত মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৩.২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ ডলার।
এতে ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় গ্যাসের দাম বেড়েছে। গত সোমবার দেশটির রাস লাফান শিল্পনগরী ও মেসাইদ শিল্পনগরী লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালায়। কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীতে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম কম্পানি কাতার এনার্জিতে ড্রোন হামলা করা হয়।
এর ফলে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয় কাতার এনার্জি। কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি কাতার এনার্জি।
ইরান ও ওমানের অধীনে থাকা হরমুজ প্রণালির সরু জলপথ দিয়ে আপাতত জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এলএনজি পরিবহনও থেমে আছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে এই অঞ্চলে কোনো জাহাজ আসতে পারবে না।
ইরান এই অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতে হামলা শুরু করায় এ পথে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ১৫০টি জাহাজ এখন আটকা পড়ে আছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
জ্বালানির দাম বাড়লে যানবাহনে ব্যবহৃত তেলের দামও বাড়বে। জাহাজ চলাচল ট্র্যাক করা প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত রবিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান বা চীনের পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। চীন তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। মাধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল নিয়ে যেতে সুপার ট্যাংকার ভাড়া করতে ব্যয় হচ্ছে চার লাখ ডলার। এক সপ্তাহ আগেও সুপার ট্যাংকারের ভাড়া ছিল অর্ধেক।
সাপ্লাই চেইন প্ল্যাটফর্ম ‘ওভারহল’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ওয়ারিক বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কম্পানিগুলো এখন তাদের জাহাজগুলোকে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে। ওয়ারিক বলেন, যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বীমা এবং জরুরি আপৎকালীন বীমার বাড়তি মাশুলের কারণে প্রতিটি চালানে হাজার হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের আর্থিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ যায় এশিয়ায়। এ ছাড়া ইউরোপের ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়েই যায়।
সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- হরমুজ প্রণালি
- জাহাজ
- চলাচল বন্ধ
- বিশ্বে
- তেল
- গ্যাসের দাম
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: