মানবিক ইউএনও-র হাত ধরে তুবা আবার ফিরল স্কুলে
বিশেষ প্রতিনিধি :
মানবিক ইউএনও মো: আলী সুজার হাত ধরে বহুল আলোচিত সেই শিশু তুবা মা আবার ফিরল তার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বন্ধুদের মাঝে ফিরে আসতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত তুবা।
বাবার মুখে পরম মমতায় চা-রুটি তুলে দেওয়া সেই ছোট্ট মেয়ে তুবার কথা মনে আছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার সঙ্গে তার সেই হৃদয় ছোয়া দৃশ্য দেখে অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিলেন লাখো মানুষ। পারিবারিক ঝোড়ো হাওয়ায় যে শৈশব থমকে গিয়েছিল, পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল ছোট্ট তুবা বিনতে অরনি—সেই তুবাই আজ আবার হাসিমুখে ফিরল তার স্বপ্নের বিদ্যালয়ে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা নিজে হাত ধরে তুবাকে নিয়ে যান তার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে। ইউএনওকে পাশে নিয়ে স্কুলে ঢোকার পর শিক্ষক ও সহপাঠীরা উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেয় তাকে। এতদিন পর চেনা আঙিনা আর বন্ধুদের কাছে পেয়ে তুবার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক।
সম্প্রতি বরিশাল জেলার উজিরপুরের বামরাইল বাজারে তুবার বাবা অনিককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ঘটনা ঘটে। চরম সংকটের মুহূর্তেও বাবার প্রতি এক ছোট্ট শিশুর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বাজার থেকে চা-রুটি এনে পরম মমতায় খাইয়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তোলে।
বিষয়টি নজরে আসতেই মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। চিকিৎসার জন্য তুবার বাবাকে দ্রুত পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি এই ঘটনার প্রভাব যাতে তুবার ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার ওপর না পড়ে, সে জন্য তার পাশে দাঁড়ায় প্রশাসন।
ঘটনা প্রসঙ্গে ইউএনও মো. আলী সুজা জানান, "পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে মেয়েটির পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তুবার ভবিষ্যৎ গঠন ও তার শিক্ষার আলো যাতে কোনোভাবেই নিভে না যায়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"
শ্রেনী কক্ষে তুবাকে নিয়ে ইউএনও মো: আলী সুজা প্রবেশ করে তুবার সহপাঠি, শ্রেনী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকের উদ্দেশ্যে আবেগঘন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তুবার দায়িত্ব তুলে দেন শিক্ষকের হাতে। সর্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে পাশে থাকার পুনরায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মামুন বলেন, "তুবা আবার শ্রেণিকক্ষে ফেরায় আমরা সবাই আনন্দিত। এতদিন পর স্কুলে ফেরায় তার পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে শিক্ষকরা তার ওপর বিশেষ নজর রাখবেন।"
নিজের উচ্ছ্বাস চেপে না রেখে শিশু তুবা বলে, "অনেক দিন পর স্কুলে আসতে পেরে আর বন্ধুদের দেখতে পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।" তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তুবাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়া আমিন রাড়ী, উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাজমুল হক মুন্না, সদস্য গোলাম মোস্তফা আকাশসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: