• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

আমতলীতে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:০৯ পিএম;
আমতলীতে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা

​মো: আ: কাইয়ুম, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

 

​আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরগুনার আমতলী থানায় এক মতবিনিময় ও প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসেনের উদ্যোগে থানা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমতলী উপজেলার ১৬টি পূজা মণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

​সভায় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মণ্ডপের নিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়:

​নিরাপত্তা ও সিসিটিভি: মণ্ডপ ও এর প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইডি কার্ডধারী স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে।

​জরুরি যোগাযোগ ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ: যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্দেহজনক পরিস্থিতি বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা ওসির সরকারি নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা: বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, বালু ও পানির ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

​শব্দদূষণ ও সামাজিক পরিবেশ: ধর্মীয় রীতি ও শালীনতা বজায় রেখে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময়ে সাউন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

​আইনশৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধ: পূজা উপলক্ষে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মাদক সেবন, বিক্রি এবং যেকোনো ধরনের জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে ধর্মীয় প্রীতি বজায় রাখতে এবং অন্য ধর্মের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।

​সভায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার থাকবে।
​উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীলরা প্রশাসনের এই নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন