মহিপুরে জমিজমাসংক্রান্ত মামলার সাক্ষী হওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুরে জমিজমাসংক্রান্ত একটি মামলায় সাক্ষী হওয়ায় বেল্লাল হাওলাদার (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় বেল্লালের ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে মহিপুর থানার ধুলারসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামের একটি খালে মাছ ছাড়ানোর সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত বেল্লাল হাওলাদার জানান, সকালে বাড়ির পাশের খালে জাল থেকে মাছ ছাড়ানোর সময় পেছন থেকে বারেক হাওলাদারের ছেলে বশির হাওলাদার দেশীয় অস্ত্র রামদা ও সাফল নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় হামলাকারী ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাঁর ঘাড়ে কোপ দেন। কোপের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বশির রামদা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
পরে খালের পাড়ে বেল্লালকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক ডাক-চিৎকার দিলে তাঁর পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর ঘাড়ে পাঁচটি সেলাই দেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহতের বড় ভাই সোনা মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই কোনো রাজনীতি বা ঝামেলার সঙ্গে জড়িত নন, তিনি অত্যন্ত শান্তশিষ্ট মানুষ। বাড়ির পাশের নজরুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্ত বশির হাওলাদারদের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সম্প্রতি ওই মামলার তদন্তে পুলিশ এলে আমার ভাই সত্য ঘটনা জানিয়ে সাক্ষ্য দেন। এর জের ধরেই তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বশির হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: