পুলিশকে মেরে সুড়ঙ্গ দিয়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা
চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন বগাকে (৪২) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের পর বাসার ভিতরের একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যান ওই সন্ত্রাসী। গতকাল নগরীর খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমসহ পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন।
খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, কলেজশিক্ষক পেটানোর ঘটনায় নিয়মিত মামলা হওয়ার পর আসামির বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্ট ও অন্যান্য অপরাধের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে ধরতে অভিযানে যায়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় তার নিজের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত ও ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং ওয়াকিল হোসেনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অভিযোগ রয়েছে- খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা। সম্প্রতি পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় করা মামলার দুই নম্বর আসামি ওয়াকিল হোসেন বগাকে ধরতেই শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র ওয়াকিল হোসেনের অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল এবং ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৩ থেকে ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে পুলিশের একাধিক দল ওয়্যারলেস এলাকার প্রতিটি গলি ও ওয়াকিলের বাসভবনে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় তার বাসার ভিতরের গোপন সুড়ঙ্গ ও পালানোর পথের সন্ধান মেলে। ওই সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে অভিযানের আগেই সটকে পড়েন তিনি। তবে অভিযানের সময় তিনি নিজে মোবাইল ফোনে ও ভিডিও কলে পুলিশকে নানা ধরনের হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বগার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি এবং বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ৮ জুন শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল। সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: