পটুয়াখালীর দশমিনায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা: আহত ২, আটক ৫
লিটু প্রতিনিধি, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের অতর্কিত হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের আরোজবেগী বাজারে এ সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর আরোজবেগী গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে মো. রবিন এবং একই গ্রামের বাবুল মাতুব্বরের ছেলে মো. তানভীর। উভয়ের মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে।
আটককৃত পাঁচজন কিশোরও একই এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন—সুব্রত সরদার, নাজমুল, সোলাইমান, জুনায়েত ও মামুন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তানভীর ও জুনায়েতের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। এর জেরে ওই দিন সন্ধ্যায় জুনায়েতসহ ৩-৪ জন আরোজবেগী বাজারে এসে তানভীরকে খোঁজাখুঁজি করেন। তানভীরকে না পেয়ে তারা তার বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেন।
পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানানো হলে তিনি শুক্রবার সকালে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পূর্বনির্ধারিত সালিশ ও মীমাংসা বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই শুক্রবার সকালে আরোজবেগী বাজারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তানভীর ও রবিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় অভিযুক্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জুনায়েত ও তার সহযোগীরা তানভীরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
এ সময় তানভীরকে বাঁচাতে রবিন এগিয়ে গেলে তাকেও মাথায় মারাত্মক আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন রক্তাক্ত জখম হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
রক্তাক্ত জখমের পর স্থানীয় লোকজন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী পাঁচজনকে একটি দোকানে আটকে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমছুউদ্দিন সঙ্গীয়
ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যান। একই সঙ্গে আহত রবিন ও তানভীরকে উদ্ধার করে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন জানান, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি আমাকে জানানোর পর শুক্রবার সকালে বাজারে বসে মীমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু আমি পৌঁছানোর আগেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায়।”
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: