• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

একই আঙ্গিনায় মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন লালমনিরহাটে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২৩ পিএম;
একই আঙ্গিনায় মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন লালমনিরহাটে

 

খাজা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :


যুগ যুগ ধরে একই আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির । এ যেন হিন্দু-মুসলিম ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন।  সম্প্রীতির এ দৃষ্টান্ত রয়েছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকায়। আলাদা ধর্মের মানুষের আলাদা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুটির অবস্থান মাত্র ছয় ফুট ব্যবধানে। মন্দিরটির নাম কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রী শ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির আর মসজিদটির নাম পুরান বাজার জামে মসজিদ। একই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মন্দিরে পুজার্চনা করেন আর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় মন্দিরে বন্ধ রাখা হয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো। এক পাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে আল্লাহ তাআলার জিকির।

এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দুটি ধর্মীয় উপাসনালয়। এক পাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ। একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদে পৃথক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মচর্চা করে আসছেন কিন্তু কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি কোনো বিবাদ। স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদ ও মন্দিরসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের পুরান বাজারে ১৮৩৬ সালে প্রথম কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ পড়ার জন্য মন্দিরের পাশে একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ তৈরি করেন। পরে সেটি জুমা মসজিদে রূপান্তরিত হয়, যেটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। এ ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দির স্থাপিত হয়।

এই সম্প্রীতির নির্দশন মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে সাধারণ মানুষ। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এই মন্দির ও মসজিদ পরিদর্শনে এসেছিলেন।

একই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মন্দিরে পূজার্চনা করেন আর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় মন্দিরে বন্ধ রাখা হয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো। যুগ যুগ ধরে একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদে পৃথক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মচর্চা করে আসছেন, কিন্তু কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মুসলিম ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি কোনো বিবাদ।

পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন, (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) বলেন, তারা একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দিরের কথা শুনে তা দেখতে আসেন। এটি দেখে তারা সবাই মুগ্ধ হয়েছেন। কয়েক যুগ ধরে একই আঙিনায় দুটি পৃথক ধর্মের পৃথক দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু কোনো দিনই কোনো ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি হয়নি। এটি সত্যি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিড়ল ঘটনা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের ঢাকঢোলসহ যাবতীয় শব্দযন্ত্র বন্ধ থাকে। নামাজ শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষ।

নামাজ শেষ করে উঠানে পা রাখতেই চোখে পড়বে মন্দিরের দেবী দুর্গার প্রতিমা। একইভাবে পূজারিরাও পূজা করতে এসে মুসলমানদের নামাজের দৃশ্য অবলোকন করতে পারছেন। পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, 'লালম-ি নরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।' কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল জানান, এই মন্দির ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি কখনো।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন