পায়রা নদীতে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষাক্ত বর্জ্য: মাছ ধ্বংস ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিতে মানববন্ধন
বিশেষ প্রতিনিধি, তালতলী (বরগুনা):
বরগুনার তালতলী উপজেলার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি পায়রা নদীতে ফেলে পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। অনতিবিলম্বে নদী দূষণ বন্ধের দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় নদী তীরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় দুই শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষিত বর্জ্য পরিবেশসম্মত সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অপসারণের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে অটোরিকশা ও নৌকায় করে এসব বিষাক্ত বর্জ্য এনে সরাসরি পায়রা নদীতে ফেলছে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে ইলিশসহ সার্বিক জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরও জানান, দূষণের কারণে নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে। পাশাপাশি বাধ্য হয়ে এই দূষিত পানি ব্যবহার করায় তীরবর্তী বাসিন্দারা চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গত কালো ধোঁয়ায় নিকটস্থ টেংরাগিরি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় কৃষি এবং জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, "বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ বিনষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: