• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

তেঁতুলিয়া নদীগর্ভে বিলীন দুই শতাধিক কবর, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত জনপদ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০১ পিএম;
তেঁতুলিয়া নদীগর্ভে বিলীন দুই শতাধিক কবর, বাঁধ ভেঙে প্লাবিত জনপদ

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে গত  ২৫ বছরে দুই শতাধিক কবর, বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে হাজিরহাট এলাকার উত্তর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের দুটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।
 এতে কয়েকটি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও কবরস্থান প্লাবিত হয়। এই আকস্মিক ভাঙন ও ভাঙনঝুঁকির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে গত বুধবার দুপুরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতের কারণে মঙ্গলবার রাতে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার বেড়িবাঁধের দুটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। মুহূর্তেই বাঁধের ওই অংশ নদীতে বিলীন হয়ে জোয়ারের পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। ভাঙনের তীব্রতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা-পুলিশ ও নৌ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রাতেই বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে কৃষিজমি, কবরস্থান ও কয়েকটি বসতঘর প্লাবিত হওয়ার পর বুধবার সকালে স্থানীয়রা পানিতে আটকে পড়া কয়েকটি পরিবারের মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেন। এ সময় একটি কবরস্থান থেকে সম্প্রতি দাফন করা অন্তত দুটি মরদেহ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় স্বজনরা অন্যত্র তুলে নিয়ে পুনরায় দাফন করেন, যা এলাকায় বেশ মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

গত বুধবার দুপুরে হাজিরহাট রক্ষার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, গত দুই দশকে তেঁতুলিয়ার করাল গ্রাসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থান, শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা নিজামউদ্দিন সুজালক বলেন, “ ২০ বছর ধরে হাজিরহাট এলাকা তেঁতুলিয়ার গ্রাসে ছোট হয়ে আসছে। নদী আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থানগুলোও রেহাই দেয়নি। গত রাতের বাঁধ ভাঙার পর সকালে একটি কবরস্থান থেকে সদ্য দাফন করা মরদেহ তুলে অন্যত্র পুনরায় দাফন করতে হয়েছে। নদীভাঙন রোধে বহুবার মানববন্ধন ও আকুতি জানালেও স্থায়ী 
কোনো সমাধান মেলেনি। আজ আমাদের শেষ আশ্রয়স্থলটুকুও হারানোর উপক্রম হয়েছে।”

এদিকে বুধবার পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “তেঁতুলিয়া নদীর আগ্রাসন থেকে হাজিরহাটসহ পুরো ভাঙনকবলিত এলাকার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত সঠিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সৌভাগ্যবশত আকস্মিক এই ভাঙনে কোনো মানুষের শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
 এলাকার লোকজন সারা রাত জেগে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক মুঠোফোনে বলেন, “আকস্মিক তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজিরহাট এলাকার মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ঘটনাটি জানার পরপরই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেছি। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য
 সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন