পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গভীর নলকূপ থেকে নির্গত হচ্ছে দাহ্য পদার্থ, জ্বলছে আগুন
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর গ্রামে একটি গভীর নলকূপ (টিউবওয়েল) বসানোর পর সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে দাহ্য পদার্থ ও গ্যাস নির্গত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পানি থেকে বুদবুদ ওঠার পাশাপাশি দিয়াশলাইয়ের কাঠি বা আগুন ধরতেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে শিখা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, নলকূপটি বসানোর সময় তৈরি হওয়া আশপাশের ছোট কূপ বা নলকূপের মুখ থেকেই গ্যাস জাতীয় কোনো দাহ্য পদার্থ বের হচ্ছে। গত ২৫ দিন ধরে এমন অদ্ভুত অবস্থা চলতে থাকায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ঘটনাটি দেখতে ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ। এমনকি ওই গ্যাস দিয়েই স্থানীয়দের রান্নাবান্না করতেও দেখা গেছে।
জানা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল প্রায় এক মাস আগে নিজ বাড়িতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট মেটাতে একটি গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেন। টানা এক দিন ও এক রাত ধরে নলকূপ স্থাপনের কাজ চলাকালে এর পাশেই একটি ছোট কূপ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ওই নলকূপের ভেতর এবং কূপের পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখা যায়।
বাড়ির মালিক মোহাম্মদ কামাল জানান, নলকূপ ও এর পাশের কূপ থেকে নির্গত হওয়া পদার্থে দিয়াশলাইয়ের কাঠি ধরতেই আগুন জ্বলে ওঠে। শুরুতে নতুন বসানো নলকূপের পাশের ওই ছোট কূপে পেঁপে গাছের ডগা দিয়ে সংযোগ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছিল। পরে গ্যাস নির্গত হওয়ার স্থানে একটি পাইপ দিয়ে স্থায়ী সংযোগ দেওয়া হয়, যেখানে দিয়াশলাই জ্বালালেই আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। তার প্রত্যাশা, এটি প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্য কোনো মূল্যবান ভূগর্ভস্থ সম্পদ হলে সরকার যেন দ্রুত বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখে।
এটি আসলেই প্রাকৃতিক গ্যাস কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, ভূগর্ভে দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা জৈব পদার্থ পচে তৈরি হওয়া মিথেন গ্যাস, কোনো ক্ষুদ্র গ্যাসের পকেট কিংবা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কারণে এমনটি হতে পারে। সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কেবল নিশ্চিত হওয়া সম্ভব যে ঠিক কী ধরনের পদার্থ বা গ্যাস বের হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের প্রশাসক আবু ইউসুফ মোক্তার সরওয়ার জানান, তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নেবেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি আবেদন হাতে পেয়েছি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধানের জন্য আজ বুধবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন পাঠানো হবে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: