কিস্তিতে টিভি কিনে গ্রাহকের মৃত্যু: পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল ওয়ালটন প্লাজা
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
কিস্তিতে পণ্য কেনার পর ক্রেতার আকস্মিক মৃত্যুতে তার শোকাহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয় ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা ওয়ালটন প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মৃত গ্রাহক কাজী মাসুদের স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
গলাচিপা ওয়ালটন প্লাজার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের বরিশাল বিভাগের ক্রেডিট ম্যানেজার মো. আবু রায়হান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আব্দুস সেলিম, রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার সিমান্ত শিকদার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গলাচিপা পৌর শাখার সভাপতি নাজমুল হুদা রিপন। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার ও প্লাজা সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা পৌর শহরের বাসিন্দা কাজী মাসুদ গত ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর গলাচিপা ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তি সুবিধায় ৪৩ হাজার ৫৭০ টাকা মূল্যের একটি ৪০ ইঞ্চি টেলিভিশন ক্রয় করেছিলেন। তিনি এর মধ্যে ৭টি কিস্তিতে মোট ২৯ হাজার ৯০০ টাকা পরিশোধও করেছিলেন। কিন্তু কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় চলতি বছরের গত ২৩ আগস্ট (২০২৬) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি।
পরবর্তীতে ওয়ালটন প্লাজার অনন্য উদ্যোগ ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’র আওতায় তার বকেয়া কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা মওকুফ করা হয় এবং পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
ওয়ালটন প্লাজা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই নীতিমালার আওতায় কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারী গ্রাহকদের ‘কিস্তি সুরক্ষা কার্ড’ প্রদান করা হয়। কিস্তি চলাকালে কোনো গ্রাহকের মৃত্যু হলে পণ্যমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রাহক পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অনাদায়ী কিস্তির টাকা সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গলাচিপা শাখা থেকে এ পর্যন্ত তিনজন মৃত গ্রাহকের পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. ইলিয়াস হোসেন।
সহায়তা পেয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকের স্ত্রী ময়না আক্তার বলেন, “স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর ওয়ালটন প্লাজার এই মানবিক সহায়তা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। কিস্তির বাকি টাকা পরিশোধ নিয়ে আমরা ভীষণ চিন্তায় ছিলাম। এমন বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
স্থানীয়রা জানান, ওয়ালটন প্লাজার এই ধরনের জনকল্যাণমুখী ও মানবিক উদ্যোগ সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: