• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

গুলশান-বনানীর স্পা ব্যবসা ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩৮ পিএম;
গুলশান-বনানীর স্পা ব্যবসা ঘিরে নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক:

‎রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে পুলিশের লঘু দন্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠছে  মানবপাচার চক্রের নিয়ন্ত্রিত অবৈধ স্পা ব্যবসা। ‎ঢাকা'র অভিজাত পাড়া গুলশান-বনানী যেখানে আভিজাত্যের আড়ালে জেঁকে বসেছে এক অন্ধকার জগতের অপ্রতিরোধ্য অবৈধ স্পা ব্যবসা।

স্থানীয়দের অভিযোগ,এলাকাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তার বলয় ভেঙে অত্যন্ত ভয়াবহ ভাবে গড়ে ওঠা স্পা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কার্যত খোলামেলা স্বীকৃত যৌনপল্লীতে পরিণত হয়েছে।বডি ম্যাসাজ ‘স্পা সেন্টার’ কিংবা ‘থেরাপি সেন্টার’-এর নাম ব্যবহার করে ভেতরে পরিচালিত হচ্ছে রমরমা দেহব্যবসা।এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়,প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক কারবার এবং উঠতি বয়সের নারী দিয়ে ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা হয়ে থাকে ।নানা কৌশলে পরিচালিত স্পা সেন্টারগুলোতে নারীসঙ্গ অথবা মাদক সেবন- তাও আবার নিরাপদে! সবকিছুই মিলবে একই ছাদের নিচে। বিভিন্ন বয়সি পছন্দমাফিক নারীসঙ্গের পাশাপাশি ইয়াবা,হেরোইন, দেশি-বিদেশি মদ,আইস, সিসাসহ সব ধরনের মাদক নাকি  হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে। 

‎সার্বক্ষণিক এক ছাদের নিচে সহজে মেলা সব ধরনের ‘নিষিদ্ধ’ আনন্দ সেবার সুযোগ পেয়ে খদ্দের ভেসে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের  আনাগোনা আগের চেয়ে আরো কয়েকগুণ বেড়েছে বলে ধারণা করছেন বসবাসকারীরা ।তাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা বয়সের নারীর সঙ্গ থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদক-সবই মিলছে হরহামেশা এসব স্পা সেন্টারে।সংবাদ সূত্র বলছে ইয়াবা,হেরোইন,বিদেশি মদ থেকে শুরু করে ভয়ংকর মাদক আইস ও সিসার ধোঁয়ায় শেষ রাত পর্যন্ত আচ্ছন্ন থাকে এসব আস্তানাগুলো।কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশন থেকে স্যালুন, থেরাপি সেন্টারের লাইসেন্স নিলেও বাস্তবে সেখানে চলছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

উঠতি বয়সের বিত্তবান সন্তান থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিই এসব সেন্টারের আকৃষ্টকরণ নারী ফাঁদে পড়ে নিয়মিত খদ্দের হিসেবে অবৈধ মনোবাঞ্ছনা পূরণ করে থাকে।আর এমন নিষিদ্ধ সব সেবার ঝুড়ি নিয়ে গুলশান-১ এর ২৪ নং সড়কের বাড়ি নং (৯১/বি)'রতন পুর ক্যাসলে ৪টি ফ্লোর  নিয়ে মোঃ মাহমুদুর রহমান পান্নু, হীরা ও হুমায়ুন এর নারী ব্যবসা,গুলশান-২ এর ৯৯ নং সড়কের ৩৩/এ নম্বর হাউজে বাহার উদ্দিন বাহারের অনৈতিক কাজের ব্যবসা,গুলশান-২ এর রোড নং ৪৫, হাউজ- নং ৩৩ হোটেল এইচ এবং ধানসিঁড়ি রেষ্টুরেন্ট এর চতুর্থ তলায় পতিতা জগতের অত্যন্ত পুরাতন নারী সমাজ্ঞী রত্না আক্তারের পরিচালনায় "অধরা থাই স্পা" বা "বিউটি থাই স্পা'র ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ নারী সানিদ্যের অফুরন্ত আআখড়াখানা।গুলশান-২ প্ল্যাটিনিয়াম মার্কেট এর তৃতীয় তলায় হীরার নিয়ন্ত্রিত ডায়মন্ড স্পা।বনানীর ২৭ নম্বর কবরস্থান রোডে চিহ্নিত শ্রমিক লীগ নেতা শহীদ এর নারী সেবার খুপরি খানা,বনানীর ১১ নং সড়কের এমজেড ভবনে লিপ্ট এর ১২ তম ফ্লোরে একই সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে গুলশান থানা এলাকা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া শাওনের অবৈধ নারী ব্যবসার আখড়াখানা।

জানা যায়,প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকগণ দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই নারী দিয়ে তাদের পতিতা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।সম্প্রতি রত্না,বাহার,হীরা,পান্নু, হুমায়ুন এর পরিচালিত খুপরিখানায় গুলশান থানা পুলিশ পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নারী-পুরুষ আটক করে কোর্টে প্রেরণ করে।একজন বাসিন্দা বলেন,অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ হয়তো কঠোর কোন ধারা প্রয়োগ না করায় তারা অল্প কিছু দিনের মধ্যেই চলে এসেছে এবং বেপরোয়া ভাবে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন,যে কারণে তাদের অপকর্ম কোন ভাবেই দমন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।আর আমরা বাসিন্দারা আরো শংকিত থাকি যে এসব খুপরিখানায় নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মঘাতী লোকজন আবার ঘাবটি  মেরে না থাকে।এসব প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের যাতায়াত নেই সেটাও বলার সুযোগ নেই কেন না আমরা শুনেছি হীরা,হুমায়ুন,পান্নুর পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে পান্নুর দেশের বাড়ি নাকি গোপালগঞ্জ আবার হীরা কিছু দিন আগে এক গোলাগুলির ঘটনায় অন্যতম আসামি বলে শোনা যাচ্ছে।আবার রত্নার প্রতিষ্ঠানটি না কি এতোদিন নিয়ন্ত্রণ করতো এক ছাত্রলীগ নেতা।তাহলে এসব স্পা সেন্টারে বসে নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা হবে না তা না বলার কোন সুযোগ নেই।এক সূত্র বলছে,এতো দিন এরা ক্ষুদ্র পরিসরে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের ব্যবসা চাঙ্গা রাখতে অনেকেই ফ্লোর বাড়িয়ে ব্যবসা আরো প্রসারিত করেছেন।ইতিমধ্যেই তারা নাকি নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা নিতে তারা প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রছায়ায়  তাদের নারী ব্যবসা পরিচালনার দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। 

‎নানা কৌশলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত  স্পা সেন্টারের আড়ালে এভাবেই চলছে অপ্রতিরোধ্য দেহব্যবসা ও  মাদক বাণিজ্যের মতো জমকালো পতিতা কারবার।গুলশান ‎-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় যেভাবে এদের স্পা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে  নিষিদ্ধ নারী ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে তাতে মনে হয় অসামাজিক কার্যকলাপ বৈধতার স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। মূল কথা হচ্ছে, আইনবহির্ভূত এসব কর্মকাণ্ড নির্মূল করা যাদের গুরু দায়িত্ব তারা কি? চান এসব ব্যবসা নির্মূল হোক।যদি চান তাহলে তাদের নাকের ডগায় এদের মতো লোক দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় এমন ব্যবসা কিভাবে পরিচালনা করছেন।হয়তো যাদের উপর নির্মূল দায় বর্তায় তারাই চাননা এসব ব্যবসা নির্মূল হোক।যার ফলে এদের মতো অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করা ব্যক্তিরা নির্ভয়ে এমন অবাধ ব্যবসা পরিচালনার নিরাপদ সুযোগ পাচ্ছেন।এসব ব্যবসা যতো নির্বিঘ্নে চলার সুযোগ পাবে অভিজাত পাড়ার নিরাপত্তা ততোটাই ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা থাকবে।তার কারণ হলো ব্যবসাগুলোর বেশিরভাগই নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের অদৃশ্য ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে বলে মন করেন কয়েক জন বাসিন্দা। 

‎‎বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসব নিষিদ্ধ কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রসাশন মাঝেমধ্যে ধরপাকড় করে 'লঘু দন্ড' দিয়ে তাদের দায়সারা দায়িত্ব পরিচালনা করেন বলে পুলিশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছত্রভঙ্গ হয়ে গুটিয়ে নেওয়া ব্যবসা গত কয়েক মাসে 'লঘু দন্ড' সুবিধায় যেমন কয়েক গুণ বেড়েছে,তেমনি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের অবাধ আসা যাওয়ার  একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বড় ধরনের নাশকতার কবল থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে এইসব স্পা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন