পাঁচবিবিতে নকল রশিদে ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লাখ টাকা নেওয়ার দাবি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনুমোদিত রশিদ বইয়ের পরিবর্তে নকল রশিদ ছাপিয়ে বাড়ির ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব পাওয়া নওগাঁর একটি বেসরকারি এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ট্যাক্স আদায়ের সুযোগ করে দিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজুর রহমান।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর নকল রশিদ বই ব্যবহার করে ট্যাক্স আদায়ের সময় হাফিজুর রহমানসহ এনজিওটির চার কর্মীকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
অভিযোগ রয়েছে, আয়মার রসুলপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ির ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এনজিওটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন মাঠকর্মী ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদিত রশিদ বইয়ের পরিবর্তে নতুন করে রশিদ বই ছাপিয়ে নেন। পরে ওই রশিদ ব্যবহার করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায় করা হয়।
দফাদার রুহুল আমিন বলেন, নকল রশিদ বই ব্যবহার করে ট্যাক্স আদায়ের বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে রশিদ বইসহ আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন।
নকল রশিদ বই ছাপানোর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে এনজিওটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজুর রহমান দাবি করেন, ট্যাক্স আদায়ের সুযোগ করে দিতে চেয়ারম্যানকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই ট্যাক্স আদায়ের কাজ চলছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আয়মার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মিল্টন বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।
ইউপি সচিব খায়রুল ইসলাম বলেন, নকল রশিদ বই ব্যবহার করে ট্যাক্স আদায়ের বিষয়টি নিয়ে পরিষদে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: