• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

অপারেশনের পর পেটে গজ রেখেই শেলাই; না ফিরার দেশে পারি জমালেন নার্স বিথি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:২২ পিএম;
অপারেশনের পর পেটে গজ রেখেই শেলাই; না ফিরার দেশে পারি জমালেন নার্স বিথি

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

 

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ (মব) রেখে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় দীর্ঘ চার মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা গেলেন নার্স বিথী আক্তার। 
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিথী আক্তার ফরিদপুর ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা-ইন-মিডওয়াইফারি সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি নিজেও একজন পরিপূর্ণ নার্স হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, দেশ সেবার সে সুযোগ আর তার হলো না।  সিজারের পর সৃষ্ট জটিলতায় তার ইন্টার্নশিপ ও লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি তীব্র যন্ত্রণাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন।
অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন পেটের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে পরিবারের দাবি। দীর্ঘদিন পেটে গজ থাকার কারণে ইনফেকশন ও গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তার বাইপাস সার্জারিও করতে হয় বলে স্বজনরা জানান।
গত চার মাস ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিথী। সর্বশেষ তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সি-জা-রের আগে বিথীর ওজন ছিল প্রায় ৬১ কেজি। দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যে তার ওজন কমে প্রায় ৩৯ কেজিতে নেমে এসেছিল। অসুস্থতার কারণে নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলেন তিনি।
এর আগে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিথী আক্তার বলেছিলেন, পেটে গজ থেকে যাওয়ার কারণে ইনফেকশন হয়ে তার পেটের নাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যয় বহন করতে হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিথী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং ঘটনার তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন