জাপানে সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
কর্মব্যস্ততা ও ঘুমের অভাবে ভোগা জাপানে এবার আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতা। কে সবচেয়ে দ্রুত ঘুমাতে পারেন এবং সবচেয়ে গভীর ও প্রশান্ত ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারেন, তা নিয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী।
সোমবার টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
‘ম্যাট রেস’ নামের এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের ধরন ও মান পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ যন্ত্র পরিয়ে আরামদায়ক গদিতে শুয়ে পড়তে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য পুরস্কার রাখা হয় ২০ লাখ ইয়েনের বেশি, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।
প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা বলেন, ‘জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানকার মানুষও অত্যন্ত কর্মঠ।’
মৃদু আলোয় সাজানো একটি কক্ষে প্রতিযোগীরা মাথায় পর্যবেক্ষণযন্ত্র লাগিয়ে ঘুমান। তাদের কেউ কেউ বিছানায় নরম খেলনা বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
নাকামা বলেন, ‘ঘুমকে এ ধরনের একটি আয়োজনে পরিণত করার মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়া এবং ঘুমের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব বলে আমি মনে করি।’
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। ওইসিডির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ সময় ছিল সবচেয়ে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় ও রাতের ব্যস্ত বিনোদন জীবন জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম কারণ।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩২ বছর বয়সী চিসাতো হোন্ডা এএফপিকে বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ইশ্, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম!’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।’
কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যাচ্ছে এবং ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত হচ্ছে—এই দুই বিষয় বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সুইমি বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চাই। তাই সেই বিছানাটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: