দেশে ফিরে ‘তামাদি’ মওকুফের কোনো সুযোগ পাবেন না শেখ হাসিনা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার সম্পর্কে শেখ হাসিনা ‘জানতেন না’ দাবি করে বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
রোববার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এ–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, ‘এই যে ফিরে আসার ব্যাপারটা আমরা যেভাবে দেখছি, সেটা হলো...যারা পলাতক থাকে, তারা ফিরে এসে সব সময় একটা কথাই বলে, সেটা হলো যে আমি এই প্রসিডিংস সম্পর্কে জানতাম না। যেহেতু আমার অগোচরে হয়েছে, অতএব আমি এই তামাদি মওকুফ চাই।…আমি যেহেতু জানতাম না, আমাকে ডিলে কনডোন (বিলম্ব মওকুফ) করে দেন, আমি বিচারের সম্মুখীন হতে চাই।’
দণ্ডিত শেখ হাসিনাসহ এই মামলার আসামিরা ‘এই প্লি–টা (আবেদন) কোনোভাবেই নিতে পারবেন না’ বলে উল্লেখ করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার।
তিনি বলেন, ‘কারণ তারা এই মামলা সম্পর্কে জানেন এবং সেখানে বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, ফিরে আসার কথা বলছেন এবং মামলাকে তারা মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন। অতএব তারা কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এসে এই সুযোগটা আর নিতে পারবেন না, যখন আমরা দেখাব যে—না, তারা অলরেডি মামলার কথা জেনে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন।’
মামলার বিচার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলাটির অভিযোগ পাওয়া গেছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। তারপরে প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। আমি মনে করছি যে ট্রায়ালটা একদম যথোপযুক্ত হচ্ছে এবং যথানিয়মেই হচ্ছে। আমরা দ্রুতও করছি না, আমরা দেরিও করছি না। আইন অনুযায়ী ঠিক যেখানে যতটুকু সময় দেওয়ার, ঠিক ততটুকু সময় দিয়েই এই মামলাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা বা দণ্ডাদেশের পরোয়ানা থাকলে ভারত আইনগতভাবেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: