ফরিদপুরে নিখোঁজের ৪ঘন্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নগরকান্দায় একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার চার ঘন্টা পর তার মরদেহ পাওয়া গেছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে রেললাইনের পাশ থেকে মাহমুদা (৯) নামে এক শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) রাত ৯টার দিকে উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের রেললাইনের পাশের পারিবারিক কবরস্থানের নিকট থেকে মাহমুদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের ইদ্রিস মোল্ল্যার মেয়ে এবং চার ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট।
নিহত শিশুর চাচা মিজানুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাহমুদা বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী বাবলু শেখের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ।
এ ঘটনায় বাবলু শেখের মেয়ে ফাতেমা আক্তারকে আটকের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ফাতেমাকে বলতে শোনা যায়, ১০ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তার ভাতিজি ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাহমুদাকে হত্যা করেছে। তবে ভিডিওর বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল ফাহাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে আভাস পাওয়া গেছে, অন্য একটি শি/শুর সঙ্গে খেলতে গিয়ে আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মরদে/হ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: