মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে নতুন কেলেঙ্কারি
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে টিকিট নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্কের ঝড়। 'ব্লাক মার্কেট' বা কালোবাজারিদের দখলে চলে গেছে এই ঐতিহাসিক রাতের টিকিট। একাধিক ইনফ্লুয়েন্সার আসল মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটায় বেনিনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। আর এই ম্যাচ দিয়েই শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেসি। বিশ্বজুড়ে সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও গণমাধ্যমের নজর এখন শুধুই এই ঐতিহাসিক ম্যাচের দিকে।
আর্জেন্টাইন সংবাদপত্রে ‘লা নাসিওনের’ মতে, আকাশচুম্বী দামে টিকিট পুনরায় বিক্রি করা নিয়ে সর্বত্র চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন ইনস্ট্রাগ্রামে এক মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী থাকা ইনফ্লুয়েন্সার চাবো মার্তিনেস।
সামাজিক মাধ্যমে মার্তিনেস লেখেন, ‘ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল আন্দ্রেস মেসির বিদায়ী ম্যাচের নতুন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সরাসরি মেসেজে যোগাযোগ করুন।’
‘লা নাসিওন’ জানায়, অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচটির সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল ৫৩ ইউরো, যা পরবর্তীতে কালোবাজারে ৩৫০ ইউরো থেকে বিক্রি শুরু হয়। এমনকি কিছু প্রিমিয়াম আসনের টিকিটের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৯০৫ ইউরোতে! পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে মূল দামের চেয়ে ৫৬৭% বেশি দামে এসব টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
শুধু মার্তিনেসই নন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটি সরাসরি মাঠে দেখার তীব্র চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কালোবাজারিরা মেতে ওঠে এই মুনাফাবাজিতে।
আর্জেন্টাইনদের ক্ষোভের মাঝেই যুক্ত হয় বেনিন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন্দ্র করে ঘটা আরেক সংকট। ম্যাচের আগে বেশ কিছু বড় সমস্যার মুখে পড়ে আফ্রিকান এই দলটি—খারাপ সুযোগ-সুবিধা, হোটেলে খেলোয়াড়দের জন্য গরম পানির অভাব, নষ্ট সাউনা, অপ্রতুল সরঞ্জাম এবং পেশাদার দলের ব্যবহারের অনুযোগী কৃত্রিম ঘাসের ট্রেনিং গ্রাউন্ড ও জিম।
এর ওপর ইকোনমি ক্লাসে চড়ে ২৩ ঘণ্টার দীর্ঘ সফরের ধকল সামলাতে হয়েছে বেনিন দলকে। এমনকি সফরের ক্লান্তিতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন দলটির ক্রীড়া বিশ্লেষক জোনাস বিদি।
সব বাধা সত্ত্বেও রিভার প্লেটের হোম গ্রাউন্ড মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৫,০০০ দর্শকের সমাগম আশা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘চাইলে আমরা এমন ৫টি স্টেডিয়ামও ভরিয়ে ফেলতে পারতাম।’
মেসির বিদায়ী রাতটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সাজানো হয়েছে বিশেষ নানা আয়োজন। কিক-অফের আগেই বেশ কয়েকজন সংগীতশিল্পী পরিবেশন করবেন বিশেষ গান ও কনসার্ট।
তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ থাকছে ম্যাচের পর বাঁশি বাজার পর। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসির তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে মেসিকে সম্মাননা স্মারক (স্মারক প্লেক) ও একটি বিশেষ স্মারক জার্সি উপহার দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে স্টেডিয়ামের বিশালাকার স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে তার ক্যারিয়ারের নানা স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে তৈরি বিশেষ ভিডিওচিত্র।
পুরো আয়োজনের শেষ ধাপে উপস্থিত ৮৫ হাজারেরও বেশি ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেবেন মেসি নিজেই। আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম সেরা এই মহাতারকাকে বিদায় জানানোর এমন ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় উৎসব উদযাপনের জন্যই এখন ক্ষণ গুনছে পুরো বিশ্ব।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: