নিখোঁজের ১৮দিন পরও উদ্ধার হয়নি শিশু মিম, অপহরণ নাকি হত্যা: ধোঁয়াশায় পরিবার
পুনরুত্থান ডেস্ক :
রাজধানীর আশুলিয়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পার হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি দুই বছর বয়সী শিশু মিম আক্তারের। মিম জীবিত নাকি মৃত, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকেও স্পষ্ট কোনো তথ্য ও সাড়া না পাওয়ায় শিশুটির পরিবারে এখন শুধুই আহাজারি।
নিখোঁজ মিম গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের শাহীন আলম ও রাবেয়া বেগম দম্পতির ছোট্ট মেয়ে। তারা বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়ার বাইফাইল আলফা গেট এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। জীবিকার প্রয়োজনে মিমের মা রাবেয়া খানম স্থানীয় একটি পোশাক ককারখানায় চাকরি করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ দিন আগে বাইফাইল আলফা গেট এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় মিম। স্বজনদের অভিযোগ, লেজের শিশুটিকে কৌশলে অপহরণ করা হয়েছে। নিখোঁজের পর থেকে নিকটাত্মীয়দের বাড়িসহ আশপাশের সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে ১৮ দিন পার হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি তারা। গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মিমের মা রাবেয়া খানম বাদী হয়ে ১। বেলী বেগম (৩৫), পিতা- বেলাল হোসেন, গ্রাম-পুরাগাছা, উপজেলা-মাধবপুর, জেলা-টাঙ্গাইল, বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন পলাশবাড়ি বটতলার জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভাড়াটিয়া; ২। সিদ্দিক (৫০), পিতা-মৃত লোকমান মিয়া, গ্রাম-ভাসানচর মন্ডলডাঙ্গি, উপজেলা : সদর, জেলা-ফরিদপুর; ঢাকার আশুলিয়া থানার পলাশ্াড়ি বটতলা এলাকার মিঠু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়াসহ অপর অজ্ঞাত ২/৩জনকে আসামী করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আশুলিয়া থানার মামলা নং ৪৪, তারিখ ৯/৯/২৬ইং। এজাহার সুত্রে জানা যায়, শিশু মিমের মা বেলি খানম জীবিকার তাগিদে আশুলিয়াতে একটি পোষাক শিল্পে চাকুরী করতেন। সে কারণে তিনি তার শিশু কন্যাকে দেখভালের জন্য ১নং আসামী বেলী বেগমকে কেয়ারটেকার হিসাবে নিয়োগ দেন। ঘটনার দিন ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাবেয়া খানম যথারীতি মিমকে বেলী বেগমের নিকট রেখে অফিসে যান। অফিস শেষে রাতে বাসায় ফিরে মিমকে খুজে পান না। রাবেয়া খানম মিমকে না পেয়ে পাগলের মত খুঁজতে থাকেন। তাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় -পরিজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও যখন কোন সন্ধান পান না তখন আত্মীয় পরিজনের সাথে পরামর্শ করে আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ, ১৮/১৯দিন যাবৎ শিশুটি নিখোঁজ, ১০/১২দিন হয়ে গেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিতাপের বিষয় কার্যত: পুলিশী কোন তৎপরতা নাই। মুল কথা পুলিশের এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নাই। ফলে পরিবারের সদস্যরা দারুন ভাবে হতাশাগ্রস্থ।
সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা রাবেয়া বেগম বলেন, “১৮টা দিন ধরে বুকের ভেতর যন্ত্রণার যে ঝড় বইছে তা বোঝাতে পারব না। আমার ছোট বাচ্চাটা কোথায় আছে, খেয়েছে কি না, নাকি মেরে ফেলা হয়েছে—কিছুই জানি না। প্রশাসনের কাছে আকুতি, আমার কোল খালি করবেন না, আমার সন্তানকে ফেরত এনে দিন।”
পরিবারের পক্ষ থেকে এবং থানায় অভিযোগের সুত্র থেকে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের রাবেয়া খানম স্বামী
এদিকে ঘটনার এত দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কার্যক্রমে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে শিশুটির স্বজনদের মাঝে। বিষয়টি নিয়ে আশুলিয়া থানার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সন্তানকে দ্রুত ও সুস্থ অবস্থায় বুকে ফিরে পেতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবারটি।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: