• ঢাকা
  • রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

আবারও গভীর সমুদ্রে ট্রলারে হামলা ও লাখ টাকার মালামাল লুট, আতঙ্কে জেলেরা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১০ পিএম;
আবারও গভীর সমুদ্রে ট্রলারে হামলা ও লাখ টাকার মালামাল লুট, আতঙ্কে জেলেরা

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

 

এক মাস না পেরোতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলসংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় দুই জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১১ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। পরপর এমন ঘটনায় গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ​শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৫টার দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পায়রা বন্দর বয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ট্রলারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ারের মালিকানাধীন ‘এফবি শাহআমানত’।

​ভুক্তভোগী জেলে মফিজুল ইসলাম জানান, সমুদ্রে থাকাকালে হঠাৎ তাদের ট্রলারের চুকান (রুডার) ভেঙে গেলে তারা পানিতে ভাসছিলেন। এ সময় ‘এফবি নুসরাত’, ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ও ‘এফবি আল্লাহর দান’সহ ৪-৫টি মাছ ধরার ট্রলার তাদের ঘিরে ফেলে। আকস্মিকভাবে হামলাকারীরা ট্রলারে উঠে ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করে তাণ্ডব চালাতে থাকে। ট্রলারের বৈধ কাগজপত্র দেখালেও তারা তা না মেনে উল্টো ট্রলারের তক্তা ও চুকান ভেঙে ফেলে।
​লুটপাটে বাধা দিতে গেলে নোয়াখালীর বাসিন্দা হোসেন ও সেলিম নামে দুই জেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণভিক্ষা চাইলে হামলাকারীরা মালামাল নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

​ট্রলারের মালিক দেলোয়ার জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় রসদ দিয়ে ট্রলারটি সমুদ্রে পাঠানো হয়েছিল। হামলাকারীরা ট্রলারে থাকা প্রায় ১০০ ট্রে মাছ (যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা), ৫ লাখ টাকা মূল্যের জাল, জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে স্পষ্ট ডাকাতি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

​মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু বলেন, ‘‘কিছুদিন ধরে জলদস্যুদের তৎপরতা কম থাকলেও সম্প্রতি তা আবার বেড়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার না করলে জেলেরা সমুদ্রে যেতে সাহস পাবে না।’’
​ঘটনার বিষয়ে কোস্টগার্ড নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ জানান, সমুদ্রে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল রয়েছে। জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ বা কোস্টগার্ডকে অবহিত করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।

​পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন তারকা জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

​সমুদ্রে জেলেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নৌ-টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিক সমিতি।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন