• ঢাকা
  • রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বাউফলে পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান ভেঙে মালামাল লুটের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৯ পিএম;
বাউফলে পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান ভেঙে মালামাল লুটের অভিযোগ

লিটু পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

 

পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতে মামলা বিচারাধীন ও পুলিশি তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কালাইয়া বন্দর বাজারের ‘মমতা সুজ’ নামের জুতার দোকানের ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সাগর দাস অভিযোগ করেছেন, এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামালসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে গেছেন।

​রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বাউফল হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ‘বাউফলের কথা’ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাগর দাস এই অভিযোগ করেন।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাগর দাস বলেন, তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে কালাইয়া বন্দর বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। দোকানের মালিক মো. নাঈম হোসেনের সঙ্গে করা সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দোকানটি ব্যবহারের মেয়াদ রয়েছে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দোকান মালিক অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ১১ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে তিনি উচ্ছেদের আশঙ্কায় আদালতের আশ্রয় নেন।

​সাগর দাসের দাবি, এই বিরোধ সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এর মধ্যেই গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মো. নাঈম, সায়েম ও আলমাসসহ কয়েকজন দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ৮–১০ লাখ টাকার জুতা ও অন্যান্য মালামাল, দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ব্যাংকের চেক ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ​ঘটনার সময় বাউফল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন সাগর দাস।
​তবে এসআই মফিজুল ইসলাম অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। প্রয়োজনে ভিডিও ফুটেজ দেখে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।” তিনি জানান, দোকান নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তার মাধ্যমে একবার সালিস হয়েছিল। তবে কোনো পক্ষই সমঝোতায় রাজি হয়নি। দোকান খুলে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না বলেও দাবি করেন। সরিয়ে নেওয়া মালামাল বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে।

​সাগর দাস আরও অভিযোগ করেন, গত ২৩ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দোকানে এসে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর এবং দোকান ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে তিনি পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বলে জানান।

সাগর দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি সিআর-৪৫৩/২৬ নম্বরে বিচারাধীন। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

​আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং পুলিশি তদন্ত চলমান থাকার মধ্যেই দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী সাগর দাস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সরিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে নাঈম হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সাগর দাস সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তিনিও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন। বর্তমানে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।’’ দোকান থেকে সরিয়ে নেওয়া মালামাল কোথায় রয়েছে—এ প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

​বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, দোকানের মালিক নাঈম হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেটি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে ৫ সেপ্টেম্বর দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন