তিনিই শিক্ষক-তিনিই আয়া-তিনিই পরিচ্ছন্নতা কর্মী; এ বছর বৃত্তি পেয়েছে ১৪ জনের মধ্যে ১৪ জন
বিশেষ প্রতিনিধি:
একটি বিদ্যালয়, একজন মাত্র শিক্ষক; আর তিনিই সব। একাধারে শিক্ষক, দপ্তরী আবার পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
বলছিলাম কিশোরগঞ্জ কালটিয়া ব্যারাক ব্যাংক পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কথা অর্থাৎ 'বিন্নাটি শিশু বিদ্যানিকেতনে"র কথা। আর এই শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রান হলেন একমাত্র শিক্ষিকা দোলন ভৌমিক। শিক্ষিকা দোলন ভৌমিক এখন শুধু একজন শিক্ষকই নন, এ অঞ্চলে সর্বস্তরের মানুষের অত্যন্ত প্রিয়জন, শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের নিকট পূজনীয়, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মানুষ।
ব্যারাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত বিন্নাটি শিশু বিদ্যা নিকেতনটি দোলন ভৌমিককে সমাজে উচ্চ আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। অর্থনৈতিক সফলতা তার আসে নাই এ কথা সত্য; কিন্তু, মানুষের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছের তাতেই নিজেকে গর্বিত মনে করেন। এরচেয়ে আর বেশি কিছু চাওয়ার নাই দোলন ভৌমিকের। তিনি জানান, এ বছর তার বিদ্যালয় থেকে ১৪জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ১৪ জন শিক্ষার্থীই কৃতিত্বের সাথে ফলাফল দিতে পরেছে; তারা সকলেই বৃত্তি লাভ করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আকড়ে ধরে আছেন, এই শিশু শিক্ষালয়টি। ৩২ বছর পূর্বে তিনি সরকারী চাকুরীর খোঁজে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন, কিন্তু বিধি বাম, পাশ করতে পারেন নাই।
অবশেষে ব্যারাক তাঁকে সুযোগ করে দেয়, শিক্ষকতা করার। গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে তার দায়িত্ব দেওয়া হয় দোলন ভৌমিকের উপরের। সেই থেকে টানা ৩২ বছর শ্রম দিচ্ছেন এখানে। বেতন মাত্র ৩৫০০ টাাকা ।
তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রায় ২৪ঘন্টা। অত্যন্ত দক্ষতা-নিষ্ঠা-সততা দোলনকে সমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। দোলন জানান, স্কুল ছেড়ে এক মুহুর্তও তার চলে না। ছুটিরদিন ছাড়া সব সময় তিনি স্কুলে কাটান। স্কুলের কেমলমতি শিশুরাই তার প্রান। পরম মমতায়, আদর আর যত্নের সাথে তাদের তিনি পাঠদান করে থাকেন।
সমাপনী পরীক্ষাতেও অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে চলেছে "বিন্নাটি শিশু বিদ্যা নিকেতন"।
স্থানীয়রা জানান, দোলন দিদি আমাদেন শিশুদের শুধু শিক্ষকই নন তিনি তাদের মায়ের মত। দোলন দি মাতৃ স্নেহে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাঁর রৃণ কোনদিনও শোধ করা যাবে না। অভিভাবকদের দাবী এই অঞ্চলের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যারা বিভিন্ন বিদ্যালয়সহ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ালেখা করছেন, তারা এই স্কুলেই তাদের ভীত রচিত হয়েছে, আর তার কারিগর হলেন দোলন। দোলনের অনেক প্রাক্তন ছাত্র আসেন তাঁর সাথে দেখা করতে, কুশলাদি বিনিময়ে। তারা খোঁজ খবর নেনে তাদের প্রিয় শিক্ষকের। তাদের দেখে দোলনের বুকটা ভড়ে যায়, তৃপ্তির নি:শ্বাস নেন তিনি। তখন তার কাছে মনে হয় নির্ভেজাল একঝাক বাতাস যেন তার বুকটাকে জুড়িয়ে দিলো। ছাত্রের সফলতায় তার চোখ বেয়ে চিকচিক করে দু'ফোটা আনন্দাশ্রু গড়িয়ে যায়।
আমরা আশা করি এভাবে আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠুক, গড়ে তুলুক তাদের ভবিষ্যৎ শক্ত মজবুত ভিতের উপর।লাখো দোলন ছড়িয়ে যাক বাংলার প্রতিটি প্রান্তে। দোলনদের এই কৃর্তি অমলিন, কোনোদিনও তা নিভে যাবে না।
বি: দ্র: দোলন সম্পর্কে বিস্তারিত জানলে আবারও ফিরে আসবো দোলনকে নিয়ে।
চলতি নামক ফেসবুক আইডি ওয়াল থেকে :
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: